যুক্তরাষ্ট্র   শনিবার ২৪ অক্টোবর ২০২৬,৮ কার্তিক ১৪৩৩

২০২৭ শিক্ষাবর্ষে যুক্ত হচ্ছে চার নতুন পাঠ্যবই

সাইফুল ইসলাম জয়

সাইফুল ইসলাম জয়

প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪১ PM ৫
২০২৭ শিক্ষাবর্ষে যুক্ত হচ্ছে চার নতুন পাঠ্যবই

ছবি: সংগৃহীত

২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে নতুন চারটি পাঠ্যবই চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, দেশীয় সংস্কৃতি, আনন্দময় শিখন এবং কারিগরি দক্ষতার সঙ্গে পরিচিত করাই এসব বইয়ের মূল লক্ষ্য। আগামীকাল রোববার (২৫ অক্টোবর) জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসি) সভায় বইগুলোর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়ার কথা রয়েছে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) প্রণীত বই চারটি হলো—চতুর্থ শ্রেণির ‘খেলাধুলা’ ও ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণির ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ও ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’। সংশ্লিষ্টদের মতে, মুখস্থনির্ভর পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, নৈতিকতা, সৃজনশীলতা এবং বাস্তব জীবনের দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করবে নতুন বইগুলো।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শিক্ষা সংস্কার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নতুন পাঠ্যবইগুলো তৈরি করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, শিক্ষার মাধ্যমে শিশুদের মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক শিষ্টাচার, পারিবারিক সংস্কৃতি ও সুনাগরিকের গুণাবলি বিকাশের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে এনসিটিবিকে যুক্ত করে বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদদের নিয়ে ধারাবাহিক পরামর্শ ও বৈঠক হয়েছে।

এনসিটিবি সূত্র জানায়, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে খেলাধুলা, সংস্কৃতি, আনন্দময় শিক্ষা এবং হাতে-কলমে কারিগরি দক্ষতাকে গুরুত্ব দিয়ে বইগুলোর পাণ্ডুলিপি তৈরি করা হয়েছে। গত ১২ জুলাই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে চার মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের কর্মশালায় বইগুলোর প্রাথমিক রূপরেখা তুলে ধরা হয়। এরপর বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদদের মতামত নিয়ে পাণ্ডুলিপি চূড়ান্ত করা হয়েছে। চারটি বইয়ের মোট প্রায় দেড় কোটি কপি ছাপানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

এনসিটিবি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা জানান, বইগুলোর পাণ্ডুলিপি প্রণয়ন ও যাচাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে। ২৫ অক্টোবর এনসিসির অনুমোদন মিললে সেগুলো মুদ্রণের জন্য পাঠানো হবে। এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু নাসের টুকু বলেন, সব প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। অনুমোদনের পর ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি বই ছাপানোর কাজ শেষ করার আশা করা হচ্ছে।

চতুর্থ শ্রেণির ‘খেলাধুলা’ বইটি ১৪টি অধ্যায়ে সাজানো হয়েছে। এতে ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার, অ্যাথলেটিকস ও দাবার মৌলিক নিয়ম শেখানোর পাশাপাশি কারাতে, জুডো ও তায়কোয়ান্দোর মতো আত্মরক্ষার কৌশলও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। খেলার সময় আঘাত পাওয়া, মচকানো, নাক দিয়ে রক্ত পড়া কিংবা হিট স্ট্রোকের মতো পরিস্থিতিতে কী করতে হবে, তা ছবির মাধ্যমে বোঝানো হবে। প্রাথমিক চিকিৎসা, পুষ্টি, সামাজিক দক্ষতা ও দেশপ্রেমের বিষয়েও থাকবে পাঠ। বইটির একটি গল্পে প্রত্যন্ত এলাকার একটি বিদ্যালয়ে মেয়েদের ফুটবল দল গড়ে ওঠা এবং সামাজিক বাধা অতিক্রম করে তাদের জাতীয় পর্যায়ে সাফল্য অর্জনের প্রেরণামূলক কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে।

চতুর্থ শ্রেণির আরেকটি বই ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’তে ১১টি অধ্যায়ের মাধ্যমে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও লোকজ জীবনধারার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচয় করানো হবে। ভাষা, পোশাক, শিল্পকলা, খাদ্যাভ্যাস, সামাজিক রীতিনীতি এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতি এতে স্থান পেয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের উৎসব, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, পিঠা-পুলির আয়োজন, পরিবারে যৌথ সিদ্ধান্ত ও পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। ‘নতুন কুঁড়ি’ প্রতিভা অন্বেষণমূলক আয়োজনের ইতিহাস এবং ১৯৭৬ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগের কথাও বইটিতে থাকবে বলে এনসিটিবি জানিয়েছে।

ষষ্ঠ শ্রেণির ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বইটি ছয়টি অধ্যায়ে তৈরি। এতে পরীক্ষা ও মুখস্থবিদ্যার বাইরে আনন্দ, অভিজ্ঞতা, সহপাঠীদের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া এবং বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে শেখার ধারণা দেওয়া হবে। স্বাস্থ্য, পরিবেশ, নিরাপত্তা, সৃজনশীলতা ও দৈনন্দিন জীবনের অভিজ্ঞতাকে পাঠের সঙ্গে যুক্ত করে শিক্ষার্থীদের ভীতিমুক্ত পরিবেশে জ্ঞান অর্জনে সহায়তা করার পরিকল্পনা রয়েছে।

অন্যদিকে, আট অধ্যায়ের ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ বইটি শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে কাজ, সমস্যা চিহ্নিত করা এবং প্রযুক্তির সহায়তায় সমাধান খোঁজার দক্ষতা বাড়াতে তৈরি করা হয়েছে। এতে কারিগরি শিক্ষার পরিচিতি, দৈনন্দিন প্রযুক্তি, ছোট উদ্যোগ, সবুজ প্রযুক্তি ও টেকসই জীবনযাপনের মতো বিষয় থাকবে। নতুন চারটি বইয়েই শব্দকোষের মতো বিশেষ অধ্যায় যুক্ত করা হয়েছে।

মাহ্দী আমিন জানান, চতুর্থ শ্রেণিতে চালু হতে যাওয়া খেলাধুলা ও সংস্কৃতিবিষয়ক পাঠ পরবর্তী সময়ে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। আর ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ও কারিগরি শিক্ষা ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির পাঠ্যক্রমে যুক্ত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এনসিটিবির সদস্য (শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. শওকত আলী খানের মতে, নতুন বইগুলো শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের বাইরেও আনন্দময় পরিবেশে বাস্তবমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক জ্ঞান অর্জনের সুযোগ তৈরি করবে।

নতুন পাঠ্যবই ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ এনসিটিবি শিক্ষাক্রম খেলাধুলা বাংলাদেশের সংস্কৃতি কারিগরি শিক্ষা লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!