আফগানিস্তানে পাকিস্তানি বিমান হামলার পর ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা। ছবি: সংগৃহীত
আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় কুনার ও পাকতিকা প্রদেশে সোমবার ভোরে পাকিস্তানি বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে। আফগান কর্তৃপক্ষের দাবি, কুনারের নুরগাল জেলায় একটি বসতবাড়িতে হামলায় তিন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন। পাকতিকা প্রদেশের বারমালেও হামলা চালানো হয়, তবে সেখানে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
আফগান সরকারের উপমুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাতের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় ভোর ৩টার দিকে নুরগাল জেলার পাথান গ্রামে একটি বাড়িতে হামলা হয়। এতে বাড়িটি ধ্বংস হয়ে যায় এবং একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত হন। আহত হন পরিবারের আরও চারজন। কুনার প্রদেশের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগও হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এর কিছুক্ষণ পর পাকতিকা প্রদেশের বারমাল জেলার রাখাহ ও তোর কান্দি এলাকায় হামলার খবর আসে। আফগান কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, সেখানে একটি দোকান ও একটি পরিত্যক্ত বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে পাকিস্তানি নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বলেছেন, হামলায় সন্দেহভাজন সশস্ত্র গোষ্ঠীর আস্তানা লক্ষ্য করা হয়েছিল। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ২৮ জন সন্দেহভাজন যোদ্ধা নিহত হওয়ার দাবি করা হয়েছে। তবে এ দাবি এবং আফগান কর্তৃপক্ষের দেওয়া হতাহতের তথ্য স্বাধীনভাবে তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী সোমবার সকাল পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এই হামলার পেছনে দুই দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ও সশস্ত্র গোষ্ঠী নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ কাজ করছে। পাকিস্তান অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তানের ভূখণ্ডে অবস্থানকারী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) সদস্যরা সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। কাবুল এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
হামলার এক দিন আগে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের হাঙ্গু জেলায় সশস্ত্র ব্যক্তিদের সঙ্গে সংঘর্ষে দুই সেনা কর্মকর্তাসহ ছয় পাকিস্তানি সেনাসদস্য নিহত হন। এর আগে কোহাটে একটি পুলিশ স্থাপনায় হামলায়ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার পর আফগান সীমান্তের ওপারে থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে পাকিস্তানের অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে।
আফগান তালেবান প্রশাসন পাকিস্তানের সামরিক হামলার নিন্দা জানিয়েছে। তালেবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ হামলাকে আফগান ভূখণ্ডে আগ্রাসন হিসেবে উল্লেখ করে উপযুক্ত জবাব দেওয়ার কথা বলেছেন। দুই দেশের মধ্যে কয়েক মাসের তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতির পর নতুন করে এই হামলা সীমান্ত উত্তেজনা বাড়াতে পারে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!