যুক্তরাষ্ট্র   শনিবার ১০ অক্টোবর ২০২৬,২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

গুম বন্ধে কঠোর আইন ও বিচারের অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর

সবুজ নিশান ডেস্ক

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৩৭ PM ৫৫
গুম বন্ধে কঠোর আইন ও বিচারের অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসে গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংগৃহীত ছবি

গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্সকে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন এবং বিশ্বের ভয়ংকর অপরাধগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, গুমের প্রতিটি ঘটনা তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ বন্ধে আইনি কাঠামো তৈরি করছে সরকার।

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে শনিবার (২৯ আগস্ট) দেওয়া এক বাণীতে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজেও বাণীটি প্রকাশ করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের গুমের শিকার ব্যক্তিদের এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সহমর্মিতা জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গুম কোনো একটি দেশের একক সমস্যা নয়; এটি বৈশ্বিক মানবাধিকার সংকট। বিশেষ করে স্বৈরতান্ত্রিক শাসন ও রাজনৈতিক সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে বিরোধী মতের মানুষ, রাজনৈতিক কর্মীসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে গুম করার ঘটনা ঘটতে পারে।

বাংলাদেশের অতীত রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, পতিত সরকারের সময়ে গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার দমনে গুম-অপহরণের মতো পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের রাখার জন্য গোপন বন্দিশালা ব্যবহৃত হয়েছে, যেগুলো পরে ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিতি পায়।

দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থার তথ্যের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, বিভিন্ন সময়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ব্যবহার করে সাত শতাধিক মানুষকে গুম করা হয়েছিল। তিনি জানান, বর্তমান সরকার এসব ঘটনার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া শুরু করেছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে গুম প্রতিরোধে পৃথক আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, জাতীয় সংসদে ইতোমধ্যে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ এবং ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে। তাঁর আশা, যথাযথ প্রক্রিয়া শেষে এসব বিল আইনে পরিণত হলে গুম ও অপহরণের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।

গুমের সামাজিক ও পারিবারিক প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি শুধু একজন মানুষের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নয়। এর সঙ্গে একটি পরিবারের স্বাভাবিক জীবন, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও মানসিক নিরাপত্তা জড়িয়ে থাকে। প্রিয়জনের কোনো সন্ধান না পাওয়া পরিবারগুলো দীর্ঘ সময় ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটায় এবং স্বাভাবিকভাবে শোক প্রকাশের সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হয়।

২০২৪ সালের আন্দোলন-সংগ্রামের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের পর কেউ কেউ ফিরে এলেও ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমসহ অনেক নিখোঁজ ব্যক্তির এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

আন্তর্জাতিক আইনের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) রোম সংবিধির ৭(২) অনুচ্ছেদে গুমকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। তাই এ ধরনের অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

এবারের আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসের প্রতিপাদ্য ‘ভিকটিমস ফার্স্ট, অ্যাকশনস নাউ’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী গুমের শিকার ব্যক্তিদের অধিকারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে গুমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বিশ্বজুড়ে ঐক্য ও সংহতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

গুম প্রতিরোধ দিবস

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!