যুক্তরাষ্ট্র   সোমবার ২ নভেম্বর ২০২৬,১৭ কার্তিক ১৪৩৩

বাউফলে গৃহবধূকে উত্ত্যক্তের অভিযোগে মারধরের শিকার জামায়াত নেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩০ জুলাই ২০২৬, ০১:০৭ AM | সর্বশেষ আপডেট: ৩০ জুলাই ২০২৬, ১২:২১ PM ৮৩
বাউফলে গৃহবধূকে উত্ত্যক্তের অভিযোগে মারধরের শিকার জামায়াত নেতা

আহত জামায়াত নেতা ফারুক হোসেন প্যাদা। ছবি: সংগৃহীত

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় এক গৃহবধূকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় এক নেতাকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২৯ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তি দাসপাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি ফারুক হোসেন প্যাদা (৪০)। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত ৮টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি ফারুক হোসেন প্যাদার বিরুদ্ধে এক গৃহবধূকে দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ তোলেন। অভিযোগের একপর্যায়ে তারা তাকে আটক করে মারধর করেন। খবর পেয়ে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফারুক হোসেন প্যাদা। তিনি দাবি করেন, স্থানীয় সাইদুল, পারভেজসহ মৃধা বাড়ির চার থেকে পাঁচজন ব্যক্তি পূর্বশত্রুতার জেরে তার ওপর হামলা চালিয়েছেন। এ সময় তার কাছে থাকা প্রায় ৫০ হাজার টাকা এবং একটি মোবাইল ফোনও নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ফারুক হোসেন বলেন, অতীতের ব্যক্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। একটি মহল তার সঙ্গে এক নারীর সম্পর্ক রয়েছে বলে গুজব ছড়িয়েছে। তিনি দাবি করেন, কোনো নারী তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্ত্যক্ত বা কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ করেননি। তবুও ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে তাকে প্রকাশ্যে মারধর করা হয়েছে।

অন্যদিকে, অভিযোগকারী পরিবারের পক্ষ থেকে ভিন্ন দাবি করা হয়েছে। গৃহবধূর শাশুড়ি জাহানারা বেগম বলেন, ফারুক হোসেন দীর্ঘদিন ধরে তার পুত্রবধূকে বিভিন্নভাবে বিরক্ত করতেন এবং টাকা-পয়সার প্রলোভন দিতেন। একপর্যায়ে পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে কুপ্রস্তাবও দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

জাহানারা বেগম আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আগে একাধিকবার আলোচনা ও সালিশ বৈঠক হয়েছে। শুরুতে তারা অভিযোগগুলো বিশ্বাস না করলেও পরে কিছু ছবি দেখার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেন। এরপরও ফারুক হোসেন তার আচরণ পরিবর্তন করেননি বলে দাবি করেন তিনি।

তবে যাকে কেন্দ্র করে এই অভিযোগ, সেই গৃহবধূর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তার অবস্থান জানা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, মারধরের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, উভয় পক্ষের বক্তব্য বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টি তদন্ত করা হবে। তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!