যুক্তরাষ্ট্র   শুক্রবার ১৬ অক্টোবর ২০২৬,৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

জ্বালানি তেলের দামে ২০ টাকা বৃদ্ধি, এর আগে সবচেয়ে বড় লাফ কবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৬ PM ৪৬
জ্বালানি তেলের দামে ২০ টাকা বৃদ্ধি, এর আগে সবচেয়ে বড় লাফ কবে

দেশের বাজারে নতুন করে বাড়ানো হয়েছে ডিজেল, পেট্রল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম; ছবি: সংগৃহীত

দেশের বাজারে আবারও বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে জ্বালানি তেলের দামে। নতুন মূল্য সমন্বয়ে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেন—চার ধরনের জ্বালানির দামই লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। এতে ডিজেল বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকা লিটারে। নতুন দর অনুযায়ী চার ধরনের জ্বালানিই দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দামে পৌঁছেছে।

সাম্প্রতিক এই মূল্যবৃদ্ধির আগে ডিজেলের দাম ছিল ১১৫ টাকা। কেরোসিন বিক্রি হতো ১৩৫ টাকায়, পেট্রল ১৪০ এবং অকটেন ১৪৫ টাকা লিটারে। অর্থাৎ প্রতিটি পণ্যের দাম একবারে ২০ টাকা করে বেড়েছে।

তবে দেশের জ্বালানি তেলের দামে সবচেয়ে বড় এককালীন বৃদ্ধি হয়েছিল ২০২২ সালের ৫ আগস্ট। ওই সময় আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সরকার এক রাতে জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপকভাবে বাড়ায়।

সেই সমন্বয়ে অকটেনের দাম ৮৯ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা এবং পেট্রলের দাম ৮৬ টাকা থেকে ১৩০ টাকা করা হয়েছিল। ফলে অকটেনে লিটারপ্রতি ৪৬ টাকা এবং পেট্রলে ৪৪ টাকা বৃদ্ধি ঘটে। একই সময়ে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম ৮০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১৪ টাকা করা হয়, অর্থাৎ দুই ক্ষেত্রেই দাম বেড়েছিল ৩৪ টাকা করে।

এরপর ২০২৬ সালের এপ্রিলেও জ্বালানি তেলের দামে বড় সমন্বয় করা হয়। ওই দফায় অকটেনের দাম ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা, পেট্রল ১১৬ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা এবং ডিজেল ১০০ টাকা থেকে ১১৫ টাকা করা হয়েছিল। অর্থাৎ অকটেনে ২০ টাকা, পেট্রলে ১৯ টাকা এবং ডিজেলে ১৫ টাকা করে দাম বাড়ে।

সেপ্টেম্বরের সর্বশেষ সমন্বয়ে চার ধরনের জ্বালানির দাম একই পরিমাণে ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। ফলে এপ্রিলের পর কয়েক মাসের ব্যবধানেই আবারও বড় ধরনের মূল্যপরিবর্তনের মুখে পড়ল দেশের জ্বালানি বাজার।

মূল্য সমন্বয়ের পেছনে সরকার আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লোকসান এবং সীমান্তপথে জ্বালানি পাচারের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের পাশাপাশি জাহাজ পরিবহনের ব্যয় বাড়ায় আমদানি ব্যয়ও বেড়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

দীর্ঘ সময় দেশের বাজারে তুলনামূলক কম দামে জ্বালানি বিক্রি করায় বিপিসির ওপর লোকসানের চাপ তৈরি হয়েছে বলেও সরকারের ব্যাখ্যায় উঠে এসেছে। পাশাপাশি প্রতিবেশী কয়েকটি দেশের তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানির দাম কম থাকায় সীমান্ত দিয়ে পাচারের আশঙ্কা বাড়ছিল বলে জানানো হয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে এর প্রভাব শুধু পাম্পে গিয়ে বেশি দাম দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। বিশেষ করে ডিজেলের মূল্য পরিবর্তনের সঙ্গে সড়ক ও নৌপরিবহন, কৃষির সেচ এবং বিভিন্ন শিল্পের উৎপাদন ব্যয়ের সম্পর্ক রয়েছে। পরিবহন খরচ বাড়লে পণ্য সরবরাহের ব্যয়ও বাড়তে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে বাজারদরে।

কৃষি খাতেও ডিজেলের দামের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ। সেচে ডিজেলের ব্যবহার থাকায় জ্বালানির ব্যয় বাড়লে কৃষকের উৎপাদন খরচ বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। একইভাবে কারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পরিবহন এবং উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেলে সামগ্রিক অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

ফলে এবারের ২০ টাকা মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে আলোচনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে এর অর্থনৈতিক প্রভাব। আগের বড় মূল্যসমন্বয়গুলোর অভিজ্ঞতা বিবেচনায় জ্বালানির নতুন দাম পরিবহন, কৃষি, শিল্প ও সাধারণ ভোক্তার ব্যয়ের ওপর কী ধরনের চাপ তৈরি করে, সেটিই এখন নজরে রাখার বিষয়।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!