যুক্তরাষ্ট্র   সোমবার ২৬ অক্টোবর ২০২৬,১০ কার্তিক ১৪৩৩

নেপালের ভয়াবহ বন্যায় চারপাশ ধ্বংস, অক্ষত ফিরোজা বাড়িটি এখন ‘মিরাকল হাউস’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৫:২১ PM ৪৭
নেপালের ভয়াবহ বন্যায় চারপাশ ধ্বংস, অক্ষত ফিরোজা বাড়িটি এখন ‘মিরাকল হাউস’

ছবি:সংগৃহীত

নেপালের ত্রিশুলি বাজারে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যেও অক্ষত রয়েছে একটি ফিরোজা রঙের বাড়ি। পরিবারের বেঁচে যাওয়ার ঘটনায় বাড়িটি পরিচিতি পেয়েছে ‘মিরাকল হাউস’ নামে।

নেপালের নুয়াকোট জেলার ত্রিশুলি বাজারে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যেও দাঁড়িয়ে আছে একটি ফিরোজা রঙের বাড়ি। আশপাশের ঘরবাড়ি, সড়ক ও সেতু ধ্বংস হয়ে গেলেও বাড়িটির মূল কাঠামো টিকে থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে এটি ‘মিরাকল হাউস’ বা ‘অলৌকিক বাড়ি’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।

২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্তসংলগ্ন হিমালয় এলাকায় একটি হিমবাহের অংশ ভেঙে পড়ার পর ভয়াবহ জলপ্রবাহের সৃষ্টি হয়। বরফ, পাথর, গাছপালা ও বিপুল পরিমাণ কাদামাটি নিয়ে সেই স্রোত ত্রিশুলি নদী দিয়ে দ্রুত নিচের দিকে নেমে আসে। মুহূর্তের মধ্যে নদীর তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, প্রচণ্ড গতির পানি ও কাদার স্রোত বাড়িটির নিচের অংশে আঘাত করছে। স্রোতের তোড়ে দরজা-জানালা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও রিইনফোর্সড কংক্রিটে নির্মিত ভবনটির মূল কাঠামো ভেঙে পড়েনি।

বাড়িটিতে থাকেন ৪৫ বছর বয়সী প্রকাশ পাণ্ডে প্যাকুরেল, তাঁর স্ত্রী, দুই সন্তান এবং বৃদ্ধ মা-বাবা। বন্যার সময় প্রকাশ ও তাঁর স্ত্রী কাছের একটি দোকানে ছিলেন। তাঁদের সাত বছরের ছেলে এর কিছুক্ষণ আগেই স্কুলে চলে গিয়েছিল। আর ১১ বছরের মেয়ে তখন স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

হঠাৎ বন্যার স্রোত নেমে আসায় পরিবারের সদস্যদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার সুযোগ প্রায় ছিল না। দ্রুত বাড়িতে ফিরে তাঁরা সেখানে আশ্রয় নেন। প্রায় দুই ঘণ্টা পরিবারের সদস্যরা বাড়ির ভেতরে আটকা ছিলেন।

প্রকাশের স্ত্রী জানান, চারপাশ থেকে বরফ, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের সঙ্গে পানি বাড়িটিতে আঘাত করছিল। ভবনটি কাঁপতে থাকায় তাঁরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। একপর্যায়ে তাঁদের মনে হয়েছিল, হয়তো আর বেঁচে ফেরা সম্ভব হবে না।

তবে শেষ পর্যন্ত পরিবারের সবাই প্রাণে বেঁচে যান। পরে বাড়ির এক সদস্য লাল পতাকা নেড়ে হেলিকপ্টারে থাকা উদ্ধারকর্মীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এরপর তাঁদের উদ্ধারের ব্যবস্থা করা হয়।

নেপাল ও চীনে এই দুর্যোগে ব্যাপক প্রাণহানি ও নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছে। ৩১ আগস্ট পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা ৯০৮-এ পৌঁছেছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজারের বেশি মানুষ।

সরকারি হিসাবে, স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩২ মিনিটের দিকে ভয়াবহ স্রোত ত্রিশুলি নদীর নিম্নাঞ্চলে আঘাত হানে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই অন্তত চারটি পানি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র ধ্বংস হয়। ত্রিশুলি নদীর প্রায় ১৬৮ কিলোমিটার নিম্নধারাজুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় ১৯টি সেতু এবং প্রায় ৪০ কিলোমিটার মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নেপালের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতারও উল্লেখযোগ্য অংশ ক্ষতির মুখে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, এটি সাধারণ বন্যার মতো ছিল না। প্রবল পানির সঙ্গে বিপুল পরিমাণ কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ ছুটে আসায় পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়।

চারপাশের ব্যাপক ধ্বংসের মধ্যে একটি বাড়ি এবং সেখানে থাকা একটি পরিবারের বেঁচে যাওয়ার ঘটনা এখন স্থানীয়দের কাছে আশার প্রতীক হয়ে উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বাড়িটির ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে ব্যাপকভাবে।

নেপাল বন্যা ২০২৬ অলৌকিক বাড়ি ত্রিশুলি নদী

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!