যুক্তরাষ্ট্র   সোমবার ২৬ অক্টোবর ২০২৬,১০ কার্তিক ১৪৩৩

ইরানকে ঘিরে মার্কিন সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪৬ PM ২৪
ইরানকে ঘিরে মার্কিন সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো এবং বিমানবাহী রণতরিতে অস্ত্র ও বাঙ্কারবিধ্বংসী বোমা মজুতের খবরে নতুন সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি জোরদার, যুদ্ধজাহাজে অস্ত্রের মজুত বৃদ্ধি এবং ইসরায়েলের সামরিক প্রস্তুতির খবর সামনে আসার পর নতুন হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপি ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সামরিক সরঞ্জাম ও যুদ্ধক্ষমতা মোতায়েন করছে ওয়াশিংটন। পাশাপাশি ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট বিমানবাহী রণতরি এবং আরেকটি মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট মোতায়েনের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের একাংশ এসব পদক্ষেপকে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য নতুন অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে দেখছেন। তবে সামরিক তৎপরতা বাড়লেও হামলা চালানোর বিষয়ে নিশ্চিত ঘোষণা পাওয়া যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত টম ব্যারাকের বক্তব্য অনুযায়ী, সপ্তাহান্তেও হামলা হতে পারে। অন্যদিকে, কয়েকজন বিশ্লেষক ধারণা করছেন, ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে। সম্ভাব্য হামলার সময় নিয়ে এসব ভিন্ন ধারণা থাকলেও কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি নিশ্চিত হয়নি।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরব সাগরে অবস্থানরত মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনে নতুন করে অস্ত্র ও গোলাবারুদ তোলা হচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, রণতরিতে দূর থেকে স্থল লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র এবং ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ধ্বংস করার উপযোগী বাঙ্কারবিধ্বংসী বোমা মজুত করা হচ্ছে।

রণতরিতে বিরল সফরের সময় ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর সাংবাদিক শেলবি হলিডে বিপুলসংখ্যক গোলাবারুদের বাক্স স্তূপ করে রাখা অবস্থায় দেখেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে সম্ভাব্য নতুন অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে অস্ত্র লোড করা এবং যুদ্ধবিমান প্রস্তুত রাখার কার্যক্রমও চলছিল।

মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন দফায় হামলার সম্ভাবনা বিবেচনায় রেখেই সামরিক বাহিনী প্রস্তুতি নিচ্ছে। মজুত করা অস্ত্রগুলো ইরানের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা ও সুরক্ষিত সামরিক অবকাঠামোতে আঘাত হানার উপযোগী বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

বর্তমান উত্তেজনার পেছনে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা, ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধ এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে বিরোধের বিষয়গুলো রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরের শুরুর পর থেকে স্থলভিত্তিক লক্ষ্যবস্তুতে বড় ধরনের হামলা তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল। তবে সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক তৎপরতা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটতে পারে—এমন উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের একাংশের আশঙ্কা, ইরানের প্রচলিত সামরিক স্থাপনাগুলো আগের হামলায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকলে নতুন অভিযানের লক্ষ্যবস্তু ও তার প্রভাব ভিন্ন হতে পারে। তাঁদের মতে, সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগও বাড়তে পারে। তবে নতুন হামলার লক্ষ্যবস্তু কী হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, দ্রুতই সংঘাতের অবসান ঘটানো সম্ভব। তবে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধান হবে, নাকি যুক্তরাষ্ট্র নতুন সামরিক অভিযান শুরু করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি কোন দিকে এগোবে, তা নির্ভর করছে ওয়াশিংটনের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পদক্ষেপের ওপর।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!