যুক্তরাষ্ট্র   শুক্রবার ১৬ অক্টোবর ২০২৬,৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

আরও দুই মাস বাড়ল যুক্তরাষ্ট্র–চীনের বাণিজ্যবিরতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫৮ PM ৪৭
আরও দুই মাস বাড়ল যুক্তরাষ্ট্র–চীনের বাণিজ্যবিরতি

যুক্তরাষ্ট্র সফরে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংকে স্বাগত জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প; ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও চীন নিজেদের মধ্যে চলমান বাণিজ্য সংঘাতের সাময়িক বিরতির সময়সীমা আরও দুই মাস বাড়িয়েছে। নতুন সমঝোতার ফলে দুই দেশের মধ্যে কার্যকর থাকা বাণিজ্যবিরতি আগামী ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত বহাল থাকবে। এর আগে ১০ নভেম্বর এই বিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল।

মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তাঁর ভাষ্য, ওয়াশিংটন ও বেইজিং ছোটখাটো সমঝোতার পরিবর্তে তুলনামূলক বড় একটি বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক চুক্তির দিকে এগোতে চায়। অতিরিক্ত দুই মাসের সময়কে সেই আলোচনার জন্য ব্যবহার করতে চায় দুই পক্ষ।

চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফরের মধ্যেই বাণিজ্যবিরতি বাড়ানোর ঘোষণা এসেছে। তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বুধবার ওয়াশিংটনে পৌঁছান তিনি। সেখানে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে গিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০১৫ সালে বারাক ওবামা পোপ ফ্রান্সিসকে স্বাগত জানানোর পর এই প্রথম কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওই ঘাঁটিতে কোনো বিদেশি নেতাকে অভ্যর্থনা জানালেন।

স্বাগত অনুষ্ঠানে দুই নেতা ও তাঁদের স্ত্রীরা করমর্দন করেন এবং ছবি তোলেন। সামরিক ব্যান্ডের পরিবেশনা ও কামানের গোলা নিক্ষেপের পাশাপাশি আকাশে একটি বি-১ বোমারু বিমানও উড়তে দেখা যায়। প্রায় তিন বছর পর যুক্তরাষ্ট্র সফরে গেছেন সি চিনপিং।

চীনা দূতাবাসের এক বিবৃতিতে সি চিনপিং বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক প্রতিদ্বন্দ্বিতার বদলে অংশীদারত্বের দিকে থাকা উচিত। তবে তাঁর বক্তব্যে কোনো নির্দিষ্ট বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

বাণিজ্যবিরতির মেয়াদ বাড়লেও দুই দেশের দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসান হয়নি। শুল্ক নিয়ে মতবিরোধের পাশাপাশি বিরল-পৃথিবী খনিজ, কম্পিউটার চিপ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিপণ্যের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ নিয়েও ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।

বেসেন্ট জানিয়েছেন, আগামী দুই মাসে দুই দেশ বড় একটি অর্থনৈতিক চুক্তির বিষয়ে কাজ চালিয়ে যাবে। একই সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা অব্যাহত থাকবে। এ বিষয়ে চীনের শেনঝেনে দুই দেশের কর্মকর্তাদের বৈঠকের পরিকল্পনাও রয়েছে।

ট্রাম্প ও সি চিনপিংয়ের বৈঠকে বাণিজ্যের পাশাপাশি তাইওয়ান, প্রযুক্তি ও ইরান পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। উন্নত প্রযুক্তি ও কম্পিউটার চিপের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ এবং তাইওয়ান নিয়ে চীনের অবস্থান আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে।

এ ছাড়া নির্দিষ্ট কিছু পণ্যে শুল্ক কমানো, মাদক পাচার ঠেকাতে সহযোগিতা এবং দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর মতো বিষয়েও আলোচনা হতে পারে। চীনে আটক মার্কিন নাগরিকদের মুক্তির বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র–চীন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার মধ্যেই দুই দেশের নেতাদের আরও একটি বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে। নভেম্বরে চীনে অনুষ্ঠেয় এপেক সম্মেলন অথবা ডিসেম্বরের যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠেয় জি-২০ বৈঠকের সময় ট্রাম্প ও সি চিনপিং আবার বৈঠকে বসতে পারেন।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!