যুক্তরাষ্ট্র   রবিবার ২৫ অক্টোবর ২০২৬,৯ কার্তিক ১৪৩৩

সংঘর্ষে ইয়েমেনে ঘরছাড়া দেড় লাখের বেশি মানুষ, বাড়ছে মানবিক সংকট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩০ PM ৫৯
সংঘর্ষে ইয়েমেনে ঘরছাড়া দেড় লাখের বেশি মানুষ, বাড়ছে মানবিক সংকট

ছবি: সংগৃহীত

ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে নতুন করে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ায় বিপুলসংখ্যক মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছেন। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (IOM) সর্বশেষ হিসাবে, জুনে উত্তেজনা বৃদ্ধির পর থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ৫৩ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

IOM-এর ডিসপ্লেসমেন্ট ট্র্যাকিং ম্যাট্রিক্সের ৩০ সেপ্টেম্বরের হালনাগাদে বলা হয়েছে, শুধু ১ আগস্ট থেকে ২৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ১ লাখ ৫২ হাজার মানুষ। জুন থেকে হিসাব করলে মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫২ হাজার ৮৫৬।

সবচেয়ে বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন তাইজ গভর্নরেটে। সেখানে প্রায় ৮৩ হাজার মানুষ অবস্থান করছেন। এরপর লাহজে প্রায় ৩৬ হাজার এবং এডেনে ১৫ হাজারের বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষের অবস্থান নথিভুক্ত করেছে IOM।

সংঘর্ষের কারণে পশ্চিম উপকূলের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ তাইজ, লাহজ ও এডেনের দিকে সরে যাচ্ছেন। অনেক পরিবার এর আগেও সংঘর্ষের কারণে বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল। সাম্প্রতিক লড়াই তাদের আবারও নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে যেতে বাধ্য করছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, ইয়েমেনের সরকারনিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন এলাকায় নতুন সংঘর্ষের কারণে খাদ্যনিরাপত্তা পরিস্থিতিও দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর অনেকেরই খাবার, পানি ও প্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংকট রয়েছে।

বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা পরিবারগুলো অস্থায়ী তাঁবু ও সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। শিশু, বয়স্ক মানুষ এবং অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।

সাম্প্রতিক সংঘর্ষের কেন্দ্রগুলোর একটি হয়ে উঠেছে তাইজ ও পশ্চিম উপকূলের এলাকা। ইয়েমেনের সরকারপন্থী বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে সেখানে সংঘর্ষ তীব্র হয়েছে। ২ অক্টোবর তাইজে হুথি অবস্থান লক্ষ্য করে ইয়েমেনের সরকারপন্থী বাহিনী একাধিক বিমান হামলার কথা জানিয়েছে।

মোখা ও আশপাশের এলাকাতেও নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরের শুরুতে সংঘর্ষ এগিয়ে আসার পর বহু পরিবার মোখা ছেড়ে এডেন, তাইজ ও লাহজের দিকে চলে যায়। তাদের অনেকেই আগেও এক বা একাধিকবার বাস্তুচ্যুত হয়েছিল।

চলমান সংঘর্ষ শুধু মানুষের বসতবাড়ি ছাড়ার কারণ হচ্ছে না, খাদ্য ও চিকিৎসাসেবার ওপরও চাপ বাড়াচ্ছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি সতর্ক করেছে, পর্যাপ্ত অর্থায়ন না পেলে নতুন করে বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!