যুক্তরাষ্ট্র   শনিবার ২৪ অক্টোবর ২০২৬,৮ কার্তিক ১৪৩৩

ফ্রান্সে ফের বিক্ষোভের ডাক, মাখোঁর পদত্যাগ দাবিতে উত্তাল রাজনীতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০২ PM ৪
ফ্রান্সে ফের বিক্ষোভের ডাক, মাখোঁর পদত্যাগ দাবিতে উত্তাল রাজনীতি

ছবি:সংগৃহীত

ফ্রান্সে নতুন করে দেশজুড়ে বিক্ষোভের প্রস্তুতি ঘিরে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। আগের সপ্তাহের সহিংসতার রেশ কাটতে না কাটতেই শনিবার (২৪ অক্টোবর) প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভের পরিকল্পনা করেছেন শিক্ষার্থী, শ্রমিক সংগঠন ও সরকারবিরোধী বিভিন্ন গোষ্ঠী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করেছে ফরাসি সরকার।

গত ১৭ অক্টোবরের সহিংসতা মোকাবিলায় ব্যর্থতার অভিযোগে সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে। এর মধ্যে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় শনিবার ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানিয়েছেন, ভাঙচুর, লুটপাট ও সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর নির্দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচির ওপর বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। কয়েকটি শহরে সব ধরনের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অন্যদিকে, কোথাও কোথাও শ্রমিক ইউনিয়নের নিবন্ধিত মিছিলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

প্যারিসে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে আয়োজিত একটি মিছিলকে শ্রমিক সংগঠনগুলো সমর্থন জানিয়েছে। তবে শহরের কেন্দ্রস্থল দিয়ে মিছিলটি যেতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। লিয়ঁ, নিস ও মন্টপেলিয়েরসহ বিভিন্ন শহরেও নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তবে এসব বিধিনিষেধের মধ্যেও আন্দোলনকারীদের কর্মসূচি থেমে নেই। বিভিন্ন গোষ্ঠী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিক্ষোভের আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি ‘ইয়েলো ভেস্ট’ বা হলুদ জ্যাকেট আন্দোলনের সমর্থকদেরও রাজপথে নামার প্রস্তুতির খবর পাওয়া গেছে।

বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর পদত্যাগ দাবি করেছে। আন্দোলনসংশ্লিষ্ট একটি ওয়েবসাইটে শনিবারের জন্য ৫০০টির বেশি বিক্ষোভ এবং আরও প্রায় ২০০টি কর্মসূচির তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত শুক্রবার শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন মাখোঁ। বৈঠকের পর শিক্ষার্থীরা জানান, প্রেসিডেন্ট তাঁদের কিছু বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে তাঁদের দাবি, আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে এবং নিজেদের অধিকার আদায়ে সংগঠিত থাকতে হবে।

অন্যদিকে, বিক্ষোভ দমনে পুলিশের কঠোর পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন বামপন্থী নেতা জঁ-লুক মেলঁশোঁ। তাঁর অভিযোগ, সরকারের বিধিনিষেধ নাগরিকদের প্রতিবাদের অধিকারকে সংকুচিত করছে। একই সঙ্গে তিনি সমর্থকদের বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

গত ১৭ অক্টোবরের বিক্ষোভের সময় ফ্রান্সের বিভিন্ন এলাকায় দোকানপাটে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। কয়েকটি শহরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে। লিমোজ শহরের একটি ঐতিহাসিক নগর ভবনে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে শত শত মানুষকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এক হাজারের বেশি মানুষকে আদালতে হাজির করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। লুটপাট ও পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

ফ্রান্সে চলমান বিক্ষোভের পেছনে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, সরকারি ব্যয় কমানোর আশঙ্কা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতাকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট মাখোঁর মধ্যপন্থী রাজনৈতিক শিবির সংসদে কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও আইন পাসের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে কট্টর ডানপন্থী ন্যাশনাল র‍্যালি এবং বামপন্থী লা ফ্রঁস ইনসুমিজ সরকারের বিরুদ্ধে জনসমর্থন বাড়ানোর চেষ্টা করছে। দুই রাজনৈতিক শিবিরের নেতারাই সাম্প্রতিক অস্থিরতার জন্য মাখোঁ প্রশাসনকে দায়ী করেছেন।

এদিকে, প্যারিসের প্রায় ১২০ কিলোমিটার দক্ষিণে ওর্লেয়াঁ শহরে ন্যাশনাল র‍্যালির সম্মেলনকে কেন্দ্র করেও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সেখানে দলটির নেত্রী মেরিন লো পেনের বক্তব্য শোনার জন্য বিপুলসংখ্যক সমর্থকের সমাগম হওয়ার কথা। একই সময়ে বামপন্থী গোষ্ঠীগুলোর কর্মসূচির পরিকল্পনা থাকায় সম্ভাব্য সংঘর্ষ ঠেকাতে নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে।

ফ্রান্সের চলমান পরিস্থিতি দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন প্রশ্ন তুলেছে। জীবনযাত্রার ব্যয়, জনঅসন্তোষ ও রাজনৈতিক মেরুকরণের মধ্যে নতুন বিক্ষোভ কতটা বিস্তৃত হয়, এখন সেদিকেই নজর রাখছেন সংশ্লিষ্টরা।

ফ্রান্সে বিক্ষোভ মাখোঁর পদত্যাগ দাবি

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!