যুক্তরাষ্ট্র   সোমবার ২ নভেম্বর ২০২৬,১৭ কার্তিক ১৪৩৩

তীব্র গরমে শিশু ও নবজাতকের সুরক্ষা: সুস্থ রাখতে যেসব বিষয়ে নজর দেবেন

সবুজ নিশান ডেস্ক

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৩:২৭ PM ১৩৮
তীব্র গরমে শিশু ও নবজাতকের সুরক্ষা: সুস্থ রাখতে যেসব বিষয়ে নজর দেবেন

ছবি: সংগৃহীত

দেশজুড়ে চলমান তীব্র গরম ও তাপপ্রবাহে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। এই সময়ে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে শিশু ও নবজাতকরা। কারণ, ছোট শিশুদের শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিকশিত না হওয়ায় তারা অতিরিক্ত গরমের প্রভাব দ্রুত অনুভব করে। পাশাপাশি তারা নিজের অস্বস্তি বা শারীরিক সমস্যার কথা স্পষ্টভাবে জানাতে পারে না। তাই গরমের সময় শিশুদের প্রতি বাড়তি যত্ন ও সতর্কতা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমের মৌসুমে শিশুদের মধ্যে ডায়রিয়া, সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া, চর্মরোগসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা বাড়তে পারে। অতিরিক্ত তাপমাত্রায় খাবার দ্রুত নষ্ট হয় এবং ক্ষতিকর জীবাণুর বিস্তার বাড়ে, ফলে শিশুদের সংক্রমণের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। এছাড়া বেশি ঘাম হলে শরীর থেকে পানি ও লবণ বের হয়ে গিয়ে পানিশূন্যতা তৈরি হতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকিও দেখা দিতে পারে।

শিশুকে তীব্র রোদ থেকে দূরে রাখুন

গরমের সময় সরাসরি রোদ শিশুদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষ করে সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত সূর্যের তাপ সবচেয়ে বেশি থাকে। তাই এই সময়ে প্রয়োজন ছাড়া শিশুকে বাইরে না নেওয়াই ভালো। বাইরে যেতে হলে ছাতা ব্যবহার, শরীর ঢেকে রাখা এবং শিশুকে সরাসরি সূর্যের আলো থেকে রক্ষা করার ব্যবস্থা করতে হবে। নবজাতকদের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে, কারণ তাদের ত্বক ও শরীর অতিরিক্ত তাপের প্রতি বেশি সংবেদনশীল।

পানিশূন্যতা প্রতিরোধ করুন

গরমে শিশুদের শরীর থেকে দ্রুত পানি বের হয়ে যায়। তাই পানিশূন্যতার লক্ষণগুলো সম্পর্কে অভিভাবকদের সচেতন থাকতে হবে। ছয় মাসের কম বয়সী শিশুর জন্য মায়ের দুধই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার এবং এটি পর্যাপ্ত তরল সরবরাহ করে। বড় শিশুদের ক্ষেত্রে নিরাপদ পানি, পানি সমৃদ্ধ ফল এবং স্বাস্থ্যকর তরল খাবার দেওয়া যেতে পারে। শিশুর প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, অতিরিক্ত দুর্বলতা বা মুখ শুকিয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।

খাবারের বিষয়ে সতর্ক থাকুন

গরমের সময় শিশুদের খাবারের মানের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। দীর্ঘ সময় বাইরে রাখা বা অস্বাস্থ্যকর খাবার শিশুদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই ঘরে তৈরি তাজা ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো উচিত। দুধ, ডিম, ফল, সবজি ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর খাবার শিশুর প্রয়োজন অনুযায়ী দিতে হবে। খাবার তৈরির আগে ও পরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাও জরুরি।

শিশুর থাকার পরিবেশ আরামদায়ক রাখুন

গরমের সময় শিশুর ঘর ঠান্ডা ও আরামদায়ক রাখার চেষ্টা করতে হবে। ঘরে যেন পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। দিনের অতিরিক্ত গরমে সরাসরি গরম বাতাস ঢোকা বন্ধ করা যেতে পারে এবং সন্ধ্যার পর ঘরে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করা উচিত। শিশুকে খুব গরম ঘরে রাখা বা অতিরিক্ত কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা এড়িয়ে চলতে হবে।

পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি

গরমে শিশুর শরীর পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত গোসল করানো, অতিরিক্ত ঘাম হলে শরীর মুছে দেওয়া এবং পরিষ্কার কাপড় ব্যবহার করা উচিত। এতে ঘামাচি, ত্বকের সমস্যা ও বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকি কমে। শিশুর ব্যবহার করা কাপড়, বিছানা ও অন্যান্য জিনিসপত্রও পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন।

আরামদায়ক পোশাক পরান

গরমের সময় শিশুদের জন্য হালকা, ঢিলেঢালা ও সুতি কাপড় সবচেয়ে উপযোগী। এসব পোশাকে শরীরে বাতাস চলাচল করে এবং ঘাম কম জমে। নবজাতকদের অতিরিক্ত কাপড়ে মুড়িয়ে রাখা ঠিক নয়, কারণ এতে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যেতে পারে।

তীব্র গরমে শিশু ও নবজাতকের যত্নে সামান্য অসতর্কতাও বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই অভিভাবকদের শিশুর আচরণ, খাওয়ার পরিমাণ, ঘামের মাত্রা ও শারীরিক পরিবর্তনের দিকে নিয়মিত নজর রাখতে হবে। কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া শিশুর সুস্থতার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

শিশুরযত্ন নবজাতকেরযত্ন স্বাস্থ্যপরামর্শ তাপপ্রবাহ

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!