যুক্তরাষ্ট্র   বুধবার ১৪ অক্টোবর ২০২৬,২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

এআই দিয়ে রায় লেখা যাবে না, এটি অনুচিত: প্রধান বিচারপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৪৩ PM ৫১
এআই দিয়ে রায় লেখা যাবে না, এটি অনুচিত: প্রধান বিচারপতি

প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। পুরোনো ছবি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজে লাগানো গেলেও আদালতের রায় লেখার ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করা অনুচিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।

শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর এশিয়াটিক সোসাইটি বাংলাদেশ মিলনায়তনে ‘এআই গভর্নেন্স সামার স্কুল ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

এআইয়ের সম্ভাবনা ব্যাপক উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, ভবিষ্যতে এর ব্যবহার সম্পর্কে জানা জরুরি। তবে প্রযুক্তিটির ইতিবাচক দিকের পাশাপাশি নেতিবাচক দিকও রয়েছে। বিশেষ করে আইনি ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের সময় তথ্য যাচাইয়ের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এ প্রসঙ্গে যুক্তরাজ্যের একটি মামলার উদাহরণ তুলে ধরেন তিনি। প্রধান বিচারপতি বলেন, একটি মামলার রায়ে অন্য একটি মামলার রেফারেন্স ব্যবহার করা হয়েছিল। বিচারক সেই রেফারেন্সের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দেন এবং পরবর্তী সময়ে আরও কয়েকটি আদালত ওই রায় অনুসরণ করে। পরে গবেষণায় দেখা যায়, যে মামলার রেফারেন্স দেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে ওই মামলার কোনো অস্তিত্বই ছিল না। বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্ট বিচারক বিব্রত হন।

প্রধান বিচারপতির মতে, এআইয়ের অন্যতম ঝুঁকি হলো—যাচাই ছাড়া এর দেওয়া তথ্য ব্যবহার করা কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

বিচারিক জীবনে ২৩ বছর পূর্ণ করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিজের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি একটি বিষয় শিখেছেন—এআই দিয়ে বিভিন্ন কাজ করা গেলেও রায় লেখা উচিত নয়।

রায় লেখার প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, বিচারকের সিদ্ধান্ত মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। প্রথমে মামলার ঘটনা বা ‘ফ্যাক্ট’ নির্ধারণ করতে হয়। এরপর ওই ঘটনার সঙ্গে প্রযোজ্য আইন, আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা ও উপধারা বিবেচনা করতে হয়। সবশেষে প্রয়োজন হয় বিচারকের নিজস্ব বিবেক ও নৈতিক বোধের।

তিনি বলেন, ফ্যাক্টের পর আইন এবং সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বিবেক বা নৈতিকতা গুরুত্বপূর্ণ। একজন মানুষের বিবেক তার নিজস্ব চিন্তাশক্তি থেকে আসে, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।

মানুষ যদি নিজের চিন্তাশক্তি হারিয়ে ফেলে, তাহলে তার সক্ষমতা অনেকটাই কমে যাবে বলেও মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকরামুল হক। স্বাগত বক্তব্য দেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার তাসনোভা শেলী।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!