যুক্তরাষ্ট্র   রবিবার ২৫ অক্টোবর ২০২৬,৯ কার্তিক ১৪৩৩

বিশ্ববাজারে চামড়াশিল্পের অবস্থান ফেরাতে বড় সংস্কার পরিকল্পনা সরকারের

সবুজ নিশান ডেস্ক

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০২ PM | সর্বশেষ আপডেট: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩০ PM ৫০
বিশ্ববাজারে চামড়াশিল্পের অবস্থান ফেরাতে বড় সংস্কার পরিকল্পনা সরকারের

ছবি:সংগৃহীত

বাংলাদেশের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য খাতকে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক করতে ট্যানারি সংস্কার, পরিবেশসম্মত উৎপাদন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দিচ্ছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে ‘বাংলাদেশের চামড়া খাতকে এগিয়ে নেওয়া: চ্যালেঞ্জ, সম্ভাবনা ও সংস্কার’ শীর্ষক এক নীতি সংলাপে এ পরিকল্পনার কথা জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

মন্ত্রী বলেন, হাজারীবাগ থেকে সাভারের হেমায়েতপুরে ট্যানারি স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী হলেও স্থানান্তর-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা ও বাস্তবায়নের বিভিন্ন দুর্বলতার কারণে খাতটি প্রত্যাশিত সুফল পায়নি। এখন বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধান করে চামড়া শিল্পকে নতুন করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করতে যেসব উদ্যোক্তা দীর্ঘদিন বিনিয়োগের পরও ভবিষ্যতে ব্যবসা সম্প্রসারণে সক্ষম বা আগ্রহী নন, তাদের জন্য ‘গ্রেসফুল এক্সিট’ সুবিধা চালুর কথা জানান মন্ত্রী। এতে নতুন উদ্যোক্তাদের প্রবেশের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের চামড়ার গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে ট্যানারি খাতে পূর্ণাঙ্গ কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। এ ক্ষেত্রে লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপ (LWG) সনদ অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সরকার কাঁচা চামড়া রপ্তানির পরিবর্তে দেশে মূল্য সংযোজন করে জুতা, ব্যাগসহ বিভিন্ন চামড়াজাত পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানির মাধ্যমে ‘বাংলাদেশ লেদার’ ব্র্যান্ডকে আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়।

সাভারের ট্যানারি শিল্প এলাকার পরিবেশগত সমস্যা সমাধানে নতুন বিশ্বমানের কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার বা সিইটিপি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যমান সিইটিপি সংস্কারের বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে। বর্তমানে ২৫ হাজার ঘনমিটার নির্ধারিত সক্ষমতার বিপরীতে কার্যকরভাবে প্রায় ১৪ থেকে ১৫ হাজার ঘনমিটার বর্জ্য শোধন করা যাচ্ছে।

বড় ট্যানারিগুলোতে নিজস্ব ইটিপি স্থাপন বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে। ছোট ট্যানারিগুলোকে কেন্দ্রীয় সিইটিপি ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে পরিবেশগত কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে হবে।

ট্যানারি শিল্পের কঠিন বর্জ্যকে সম্পদে পরিণত করতে ট্যালো, হাড়ের গুঁড়া ও অন্যান্য ব্যবহারযোগ্য পণ্য উৎপাদনের জন্য কয়েকটি কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে সাভার ট্যানারি এলাকাকে সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পুনর্ব্যবহারভিত্তিক শিল্পাঞ্চলে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইউরোপের বাজারে বাণিজ্য সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি স্পেন ও ইতালির বড় চামড়া শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

২০২৭ সালের মধ্যে সাভারে চামড়া ও অন্যান্য শিল্পের জন্য দক্ষতা ও ডিজাইন উন্নয়ন কেন্দ্র চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। দক্ষ শ্রমশক্তি তৈরি, আধুনিক ডিজাইন, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন, বিনিয়োগ সুবিধা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং বন্ডসংক্রান্ত জটিলতা দূর করার মাধ্যমে চামড়া শিল্পকে আন্তর্জাতিক বাজারে শক্ত অবস্থানে নেওয়ার লক্ষ্য সরকারের।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলীয় ডেপুটি হাইকমিশনার ক্লিনটন পবকে, ফ্ল্যাক্সার সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, সানেমের নির্বাহী পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হানসহ ব্যবসায়ী, ট্যানারি ও পাদুকা উদ্যোক্তা, শ্রমিক প্রতিনিধি এবং উন্নয়ন সহযোগীরা অংশ নেন।

বাংলাদেশের চামড়া শিল্প বাণিজ্যমন্ত্রী

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!