যুক্তরাষ্ট্র   রবিবার ২৫ অক্টোবর ২০২৬,৯ কার্তিক ১৪৩৩

ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানিয়ে বিভাজন নয়: অনিন্দ্য ইসলাম অমিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৩ PM ৬৮
ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানিয়ে বিভাজন নয়: অনিন্দ্য ইসলাম অমিত

যশোরে জন্মাষ্টমীর আলোচনা সভায় বক্তব্য দিচ্ছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। ছবি: সংগৃহীত

ধর্মীয় বিশ্বাসকে কেন্দ্র করে সমাজে বিভাজন কিংবা অশান্তি তৈরির চেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এ ধরনের উদ্যোগের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র ও সরকারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও ঐক্যবদ্ধভাবে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) যশোরের মুন্সী মেহেরুল্লাহ ময়দানে শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। র‌্যালির আগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে যশোর জেলা, সদর উপজেলা ও পৌর পূজা উদযাপন পরিষদ। জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ধর্ম মানুষের ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও চেতনার সঙ্গে সম্পর্কিত। রাজনৈতিক বা অন্য কোনো স্বার্থ হাসিলের জন্য ধর্মকে ব্যবহার করা উচিত নয়। তার ভাষ্য, কোনো ব্যক্তি ধর্মীয় পরিচয় কিংবা রাজনৈতিক মতাদর্শকে কাজে লাগিয়ে সমাজে বিভেদ সৃষ্টি বা অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

জন্মাষ্টমীর তাৎপর্য তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দিনটি শুধু একটি ধর্মীয় উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা নয়; এর সঙ্গে আধ্যাত্মিকতা ও ধর্মীয় চেতনার বিষয়ও জড়িত। শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাবের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অন্ধকার ও সংকটের সময়েও ন্যায় ও সত্যের পথ শেষ পর্যন্ত মানুষের জন্য আশার বার্তা নিয়ে আসে।

তিনি আরও বলেন, পারস্পরিক আস্থা, ভালোবাসা ও সত্যের চর্চার মধ্য দিয়ে সমাজে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব। ব্যক্তিগত কিংবা গোষ্ঠীগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান থেকেও এ বিষয়ে শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকারের বিষয়টি উল্লেখ করে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার একটি বক্তব্যের প্রসঙ্গ টানেন। তিনি বলেন, ধর্মীয় বিশ্বাস বা রাজনৈতিক দর্শন আলাদা হলেও বাংলাদেশে বসবাসকারী মানুষের অভিন্ন পরিচয় বাংলাদেশি। সরকারের একজন প্রতিনিধি হিসেবে যশোরে তার যে অধিকার রয়েছে, সনাতন ধর্মাবলম্বী নাগরিকদেরও একই অধিকার রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম ও পৌর প্রশাসক রফিকুল হাসান। সম্মানিত অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু ও সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খান খোকন।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপংকর দাস রতনের সভাপতিত্বে সভাটি পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার ঘোষ। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি গোলাম রেজা দুলু, সাবেক পৌর মেয়র মারুফুল ইসলাম, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের যশোর জেলা শাখার আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট দেবাশীষ দাস, রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশন যশোরের অধ্যক্ষ স্বামী জ্ঞানপ্রকাশানন্দজী মহারাজসহ পূজা উদযাপন পরিষদ ও স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!