যুক্তরাষ্ট্র   বুধবার ১৪ অক্টোবর ২০২৬,২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

‘না’ ভোট না দেওয়ায় জামায়াত একাত্তরের ভূমিকা মেনে নিয়েছে: আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০৫ PM ৫৬
‘না’ ভোট না দেওয়ায় জামায়াত একাত্তরের ভূমিকা মেনে নিয়েছে: আইনমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন সংশোধনের সময় সংসদে ‘না’ ভোট না দেওয়ার মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী ১৯৭১ সালের ভূমিকা পরোক্ষভাবে মেনে নিয়েছে বলে দাবি করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর লেকশোর গ্র্যান্ডে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের লেখা ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী: এর ইতিহাস ও রাজনীতি’ বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি এ বক্তব্য দেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন সংশোধনের সময় জামায়াতে ইসলামী তাদের নাম মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়েছিল। আলোচনার পর সংশোধিত আইনে ‘তৎকালীন জামায়াতে ইসলামী’, ‘তৎকালীন মুসলিম লীগ’ ও ‘তৎকালীন নেজামে ইসলাম’ উল্লেখ করা হয়।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, পরে আইনটি সংসদে উপস্থাপন ও পাসের সময় জামায়াতে ইসলামীর কোনো সদস্য ‘না’ ভোট দেননি। এই সংসদীয় প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার বিষয়টিকে তিনি ১৯৭১ সালে দলটির ভূমিকা মেনে নেওয়ার পরোক্ষ অবস্থান হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।

আসাদুজ্জামান বলেন, ২০১৬ সালে জামায়াতের সাবেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক দলটির ১৯৭১ সালের ভূমিকার জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তার মতে, সে সময় জামায়াত ওই অবস্থান গ্রহণ করলে দলটির অতীত ভূমিকা নিয়ে অনেক প্রশ্নের সমাধান হতে পারত।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, রাজ্জাকের বইয়ে জামায়াতের ইতিহাস ও রাজনৈতিক দর্শনের পাশাপাশি ১৯৭১ সালের ভূমিকা নিয়ে তার মূল্যায়ন উঠে এসেছে। তিনি বইটির বিভিন্ন বক্তব্যের সঙ্গে একমত বা দ্বিমত হওয়ার সুযোগ থাকা উচিত বলেও মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে জামায়াতের বর্তমান নেতৃত্ব ও দলটির আইনজীবীদের উপস্থিতি প্রত্যাশা করেছিলেন বলে জানান আইনমন্ত্রী। তার ভাষ্য, বইয়ের বক্তব্যের সঙ্গে কেউ দ্বিমত পোষণ করলে আলোচনার মাধ্যমে তা প্রকাশ করার সুযোগ রয়েছে।

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইনের সংশোধিত সংজ্ঞায় ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য সংগ্রামকারীদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে তৎকালীন জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ ও নেজামে ইসলামের নামও রয়েছে।

অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী ছাড়াও দেশি-বিদেশি বিভিন্ন শিক্ষাবিদ, গবেষক, আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!