ছবি: সংগৃহীত
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকপুত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত শেষ করার বিষয়ে সরকারের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আলোচিত রামিসা হত্যার বিচার যেভাবে দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, একইভাবে অপ্রতীম হত্যার বিচারও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে। তবে বিচারিক সিদ্ধান্ত আদালতই দেবেন এবং সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে বলে জানান তিনি।
তদন্তের অগ্রগতি তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, অপ্রতীমের মায়ের ব্যবহৃত যে আইফোনটি নিখোঁজ হয়েছিল, সেটি সন্দেহভাজন তুহিনের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তুহিন, আনাস ও ফাহিম নামে তিন তরুণকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অপ্রতীমের সঙ্গে তুহিনকে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাওয়ার পর তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনাস ও ফাহিমকে আটক করা হয়।
অপ্রতীম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে। ১৩ বছর বয়সী এই শিক্ষার্থী গত শুক্রবার মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়। পরদিন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের লালমাই পাহাড়ের নির্জন এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, অপ্রতীম নিখোঁজ হওয়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। সেই ফুটেজের সূত্র ধরেই তুহিনকে প্রথমে আটক করা হয়। পরে তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনাস ও ফাহিমকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এদিকে রোববার সকালে কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতি এলাকায় পারিবারিক কবরস্থানে অপ্রতীমের দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে সকাল ১০টা ১০ মিনিটে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয়রা অংশ নেন। জানাজায় অপ্রতীমের জন্য দোয়ার পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবি জানানো হয়।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম সালাহউদ্দিন আহমদ
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!