জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান; ছবি: সংগৃহীত
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, জাতীয় স্বার্থ এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেছেন, বিশ্বমঞ্চে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী।
নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর সোমবার স্থানীয় সময় রাত ৯টায় হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মাহ্দী আমিন এসব কথা বলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দেশের মানুষের দেশপ্রেম, আশা-আকাঙ্ক্ষা ও অনুভূতিকে ধারণ করে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কোন পথে এগোবে, সেই ভাবনাও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে উপস্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
মাহ্দী আমিন প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিত্বশীল সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দীর্ঘ সময় পর জাতিসংঘের এই অধিবেশনে অংশ নিচ্ছেন তারেক রহমান। তিনি বাংলাদেশের অধিকার ও জাতীয় স্বার্থের বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরবেন বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র।
জাতিসংঘে তারেক রহমানের প্রথম ভাষণ আগামী বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর দেওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ওই বক্তব্যে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে। যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, প্রযুক্তির ন্যায়সংগত ব্যবহার এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংস্কারও আলোচনায় থাকার কথা।
সফরের সময়সূচি খুব সংক্ষিপ্ত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মাহ্দী আমিন। তাঁর তথ্য অনুযায়ী, যাতায়াতের সময় বাদ দিলে নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীর হাতে থাকবে চার কর্মদিবস। এ সময়ে জাতিসংঘের বিভিন্ন কর্মসূচির পাশাপাশি একাধিক দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
সফরের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হয়েছে ২২ সেপ্টেম্বর। সকালে জাতিসংঘ মহাসচিবের আমন্ত্রণে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের জন্য আয়োজিত স্বাগত প্রাতঃরাশে অংশ নেওয়ার পর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী পর্বে যোগ দেওয়ার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রীর। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সফরে বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক এবং জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার কর্মসূচিও রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানও নিউইয়র্ক সফরে রয়েছেন। মাহ্দী আমিন জানিয়েছেন, প্রচলিত বড় বহরের পরিবর্তে এবার তুলনামূলক ছোট প্রতিনিধিদল নিয়ে সফর করছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আনুষ্ঠানিকভাবে ৩৫ জন এই সফরে রয়েছেন; এর বাইরে প্রয়োজনীয় গণমাধ্যম, নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত কর্মীরা রয়েছেন। তবে অন্য সরকারি তথ্যসূত্রে প্রতিনিধিদলের সদস্যসংখ্যা ২৬ বা ৩৮ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে বহরের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নিয়ে সরকারি সূত্রগুলোর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
জাতিসংঘ সফরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আলাদা বৈঠক হবে কি না, সে বিষয়েও প্রশ্ন ওঠে। সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান, এবারের সফরের মূল উদ্দেশ্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নেওয়া। সে কারণে আলাদা দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সুযোগ সীমিত বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছান। তুর্কিশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ইস্তাম্বুল হয়ে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। সঙ্গে ছিলেন ডা. জুবাইদা রহমান ও সফরসঙ্গীরা।
এবারের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য আরও একটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে সাধারণ পরিষদের এই অধিবেশনে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!