যুক্তরাষ্ট্র   শনিবার ২৪ অক্টোবর ২০২৬,৮ কার্তিক ১৪৩৩

গঙ্গার পানিবণ্টনে নবায়ন নয়, নতুন চুক্তি চায় বাংলাদেশ

সবুজ নিশান ডেস্ক

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০৬ PM ৫৪
গঙ্গার পানিবণ্টনে নবায়ন নয়, নতুন চুক্তি চায় বাংলাদেশ

রাজধানীতে নদীবিষয়ক এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি; ছবি: সংগৃহীত

ভারতের সঙ্গে গঙ্গার পানিবণ্টন নিয়ে বিদ্যমান চুক্তি শুধু নবায়ন না করে নতুন একটি চুক্তি করার পক্ষে বাংলাদেশ। প্রস্তাবিত চুক্তিতে পানির হিস্যা নিশ্চিত করার পাশাপাশি গ্যারান্টি ক্লজ রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে নদীবিষয়ক এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় মন্ত্রী বাংলাদেশের এই অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, নতুন চুক্তির মাধ্যমে দেশের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে চায় সরকার।

গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির বিষয়টি সামনে এসেছে ১৯৯৬ সালের বাংলাদেশ-ভারত চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রেক্ষাপটে। ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর সই হওয়া ওই চুক্তি ৩০ বছরের জন্য কার্যকর হয় এবং ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে এর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা।

অনুষ্ঠানে নদীর গুরুত্ব তুলে ধরে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির সঙ্গে নদ-নদীর সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে শিল্পায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশের নদীগুলো নানা সংকটের মুখে পড়ছে। নদীদূষণের প্রকৃত কারণ শনাক্ত করে তা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

রাজধানীর বুড়িগঙ্গা নদীর দূষণ পরিস্থিতিকেও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন এ্যানি। তাঁর মতে, নদী রক্ষা ও পুনরুদ্ধারে বিচ্ছিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে ঢাকার বর্জ্যপানি ব্যবস্থাপনার একটি চিত্রও তুলে ধরা হয়। জানানো হয়, ঢাকা মহানগরে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ৯০০ মিলিয়ন লিটার বর্জ্যপানি উৎপন্ন হয়। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মিলিয়ন লিটার বর্জ্যপানি নদীতে গিয়ে পড়ে। এর ফলে পরিবেশের পাশাপাশি প্রতিবছর বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

গঙ্গার নতুন চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান শুধু পুরোনো চুক্তির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সাম্প্রতিক আলোচনায় পানির ন্যায্য হিস্যা ও নিশ্চয়তা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। নতুন চুক্তিতে গ্যারান্টি ক্লজ রাখার কথাও সরকারিভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

এদিকে রাজধানীর নদীগুলোর দূষণ নিয়ন্ত্রণ, সংরক্ষণ এবং ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর অনুষ্ঠানে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!