যুক্তরাষ্ট্র   বুধবার ১৪ অক্টোবর ২০২৬,২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

তিস্তা মহাপরিকল্পনায় প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু, সম্ভাব্যতা সমীক্ষার প্রস্তাব

সবুজ নিশান ডেস্ক

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫৪ PM ১৮
তিস্তা মহাপরিকল্পনায় প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু, সম্ভাব্যতা সমীক্ষার প্রস্তাব

তিস্তা নদীর একটি অংশ। ফাইল ছবি

উত্তরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের বন্যা, নদীভাঙন ও পানিসংকট মোকাবিলায় প্রস্তাবিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রাথমিক প্রশাসনিক ও কারিগরি কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার। প্রকল্পের কারিগরি ও অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা যাচাই করতে প্রায় ২৩ কোটি টাকার সম্ভাব্যতা সমীক্ষার প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় সমীক্ষা ও যাচাই-বাছাই শেষে মহাপরিকল্পনার পরবর্তী ধাপে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। প্রস্তাবটি অনুমোদন হলে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রকল্পের বিভিন্ন কারিগরি ও অর্থনৈতিক দিক বিস্তারিতভাবে মূল্যায়ন করা হবে।

তিস্তা মহাপরিকল্পনার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো উত্তরাঞ্চলের বন্যা ও নদীভাঙনের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা মোকাবিলা করা। পাশাপাশি নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা, পানি ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং নদীকেন্দ্রিক যোগাযোগ ও কৃষি কার্যক্রমের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ও পরিকল্পনায় রাখা হয়েছে।

প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় প্রায় ১১০ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ৬৭টি গ্রোয়েন বা স্পার নির্মাণ ও সংস্কার এবং ১১০ কিলোমিটার নদী ড্রেজিংয়ের কথা রয়েছে। এর পাশাপাশি ২২৪ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ ও বাঁধের ওপর সড়ক তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। নদীশাসনের মাধ্যমে প্রায় ১৭০ বর্গকিলোমিটার ভূমি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব তথ্য চলতি বছরের জুলাইয়ে জাতীয় সংসদেও তুলে ধরেছিলেন পানিসম্পদমন্ত্রী।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিনের ভাষ্য, সমন্বিত এই উদ্যোগ নদী ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের আঞ্চলিক যোগাযোগ ও সেচব্যবস্থায়ও প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁর মতে, প্রস্তাবিত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও এর ওপর সড়ক নির্মাণ হলে বর্ষায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া এলাকাগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হতে পারে।

নদী বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ এজাজ মনে করেন, নদীর পলি ব্যবস্থাপনা ও গতিপ্রকৃতি বিবেচনায় রেখে ড্রেজিং পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। বুয়েটের পানিসম্পদ কৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আতাউর রহমানও উজান ও ভাটির পানিপ্রবাহ এবং প্রকল্পের কাঠামোগত নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ কে এম সাহাবুদ্দিন বলেন, সম্ভাব্যতা সমীক্ষার মাধ্যমে ব্যারেজ, নদীশাসন, ড্রেজিং, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি সংরক্ষণসহ পরিকল্পনার বিভিন্ন অংশের কারিগরি ও অর্থনৈতিক দিক মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে। পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতার জানিয়েছেন, প্রস্তাবটি অগ্রাধিকার দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।

এর আগে জাতীয় সংসদে পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি জানিয়েছিলেন, তিস্তা নদীর দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা সমাধান এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক রূপান্তর সরকারের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে। তিনি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথাও জানিয়েছিলেন।

রংপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধাসহ তিস্তা অববাহিকার বিভিন্ন এলাকা দীর্ঘদিন ধরে শুষ্ক মৌসুমে পানিসংকট এবং বর্ষায় নদীভাঙনের সমস্যায় ভুগছে। মহাপরিকল্পনার প্রস্তাবিত কাজগুলো বাস্তবায়িত হলে এসব এলাকার পানি ব্যবস্থাপনা, কৃষি, যোগাযোগ ও ভূমি ব্যবহারে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে প্রকল্পের মূল অবকাঠামো নির্মাণের আগে নতুন সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া চলছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমীক্ষাটি ২০২৮ সালের মার্চে শেষ হওয়ার কথা থাকায় বড় পরিসরের নির্মাণকাজ ২০২৯ সালের আগে শুরু নাও হতে পারে।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!