যুক্তরাষ্ট্র   মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর ২০২৬,১৮ কার্তিক ১৪৩৩

মহাসপ্তমীর পূজায় মণ্ডপে মণ্ডপে ভক্তদের সমাগম

সবুজ নিশান ডেস্ক

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৬ PM ৬৮
মহাসপ্তমীর পূজায় মণ্ডপে মণ্ডপে ভক্তদের সমাগম

শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাসপ্তমীতে পূজার আনুষ্ঠানিকতা ও দেবী দর্শনে ব্যস্ত ভক্তরা। ছবি: সংগৃহীত

শারদীয় দুর্গোৎসবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন মহাসপ্তমী আজ। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে দেবী দুর্গার আরাধনা, মন্ত্রোচ্চারণ ও নানা ধর্মীয় আচার পালিত হচ্ছে। ষষ্ঠীর বোধন ও অধিবাসের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মহাসপ্তমীতে ভক্তদের উপস্থিতিতে মণ্ডপগুলোতে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে।

মহাসপ্তমীর অন্যতম প্রধান আচার নবপত্রিকা স্থাপন। কলাগাছের সঙ্গে আরও আটটি উদ্ভিদ একত্রে বেঁধে স্নান করিয়ে নতুন শাড়ি পরানো হয়। প্রচলিতভাবে ‘কলাবউ’ নামে পরিচিত নবপত্রিকাকে পূজামণ্ডপে স্থাপন করা হয়। নয়টি উদ্ভিদকে দেবীর বিভিন্ন শক্তির প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কৃষি, খাদ্য ও প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের কথাও এই আচার স্মরণ করিয়ে দেয়।

এদিনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা মহাস্নান। আয়নায় দেবীমূর্তির প্রতিফলন রেখে বিভিন্ন উপাচারে স্নানের আচার সম্পন্ন করা হয়। ভক্তদের কাছে এটি পবিত্রতা ও আত্মশুদ্ধির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।

দুর্গাপূজার পৌরাণিক আখ্যানের কেন্দ্রে রয়েছে দেবী দুর্গার মহিষাসুর বধ। এই কাহিনি শুভ ও অশুভের দ্বন্দ্ব এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের প্রতিষ্ঠার প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। দেবীর সঙ্গে লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের উপস্থিতিও পূজার ঐতিহ্যের অংশ।

বাঙালি সংস্কৃতিতে দুর্গোৎসব ধর্মীয় আচার ছাড়াও পারিবারিক ও সামাজিক মিলনের উপলক্ষ। প্রতিমা নির্মাণ, ঢাক বাজানো, আলোকসজ্জা ও বিভিন্ন আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত শিল্পী, কারিগর এবং ব্যবসায়ীদের কর্মযজ্ঞে উৎসবের অর্থনৈতিক দিকও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

মহাসপ্তমীর আনন্দের পাশাপাশি উৎসবকে ঘিরে সবার নিরাপত্তা ও সম্প্রীতি নিশ্চিত করার প্রত্যাশাও রয়েছে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের মর্যাদা রক্ষা এবং নির্বিঘ্নে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনের পরিবেশ বজায় থাকলেই উৎসবের আনন্দ সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে।

শারদীয় দুর্গোৎসব মহাসপ্তমী

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!