যুক্তরাষ্ট্র   বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,১ আশ্বিন ১৪৩৩

ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য গ্রেডভিত্তিক বেতন কাঠামো, জারি হলো নতুন নীতিমালা

সবুজ নিশান ডেস্ক

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৩ PM | সর্বশেষ আপডেট: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৬ PM ১৫০
ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য গ্রেডভিত্তিক বেতন কাঠামো, জারি হলো নতুন নীতিমালা

দেশের মসজিদে কর্মরত ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদিমদের জন্য সরকার প্রথমবারের মতো গ্রেডভিত্তিক বেতন কাঠামো নির্ধারণ করেছে। একই সঙ্গে নিয়োগ পদ্ধতি, ছুটি, আবাসন সুবিধা ও অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধা নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে নতুন মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা–২০২৫-এ।


সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় নীতিমালাটি প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।


নীতিমালা অনুযায়ী, খতিব ছাড়া মসজিদে কর্মরত সব জনবল জাতীয় বেতন স্কেলের আওতায় গ্রেডভিত্তিক বেতন পাবেন। তবে খতিবদের বেতন চুক্তিভিত্তিক হবে। আর্থিকভাবে দুর্বল ও পাঞ্জেগানা মসজিদের ক্ষেত্রে স্থানীয় সামর্থ্য অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের সুযোগ রাখা হয়েছে।

নতুন কাঠামোতে সিনিয়র পেশ ইমামকে ২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী পঞ্চম গ্রেডে, পেশ ইমামকে ষষ্ঠ গ্রেডে এবং সাধারণ ইমামকে নবম গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একইভাবে প্রধান মুয়াজ্জিন দশম গ্রেডে, মুয়াজ্জিন একাদশ গ্রেডে, প্রধান খাদিম পঞ্চদশ গ্রেডে এবং খাদিম ষেড়শ গ্রেডে বেতন পাবেন।


জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী পঞ্চম গ্রেডে মূল বেতন শুরু ৪৩ হাজার টাকা থেকে, যার সঙ্গে বিভিন্ন সরকারি ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা যুক্ত থাকে। এই গ্রেডে সাধারণত উপসচিব পর্যায়ের কর্মকর্তারা বেতন পেয়ে থাকেন।


নীতিমালায় মসজিদে কর্মরত জনবলের কল্যাণের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। সামর্থ্য অনুযায়ী সপরিবারে থাকার ব্যবস্থা করার নির্দেশনার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য মাসিক সঞ্চয় এবং চাকরি শেষে এককালীন সম্মাননা প্রদানের বিধান রাখা হয়েছে।


ছুটির ক্ষেত্রেও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে মাসে সর্বোচ্চ চার দিন সাপ্তাহিক ছুটি নেওয়া যাবে। এছাড়া বছরে ২০ দিন নৈমিত্তিক ছুটি এবং প্রতি ১২ কর্মদিবসে একদিন করে অর্জিত ছুটির সুযোগ থাকবে।


নিয়োগ প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ করতে সাত সদস্যের একটি বাছাই কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কমিটির সুপারিশ ছাড়া কোনো পদে নিয়োগ দেওয়া যাবে না। নিয়োগপত্রে বেতন, দায়িত্ব ও চাকরির শর্তাবলি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।


নতুন নীতিমালায় মসজিদে নিরাপত্তা প্রহরী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পদ সংযোজন করা হয়েছে। পাশাপাশি নারীদের জন্য শরিয়তসম্মত পৃথক নামাজের স্থান নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটিকে।


মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ১৫ জন নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে মসজিদের আয়, আয়তন ও অবস্থান বিবেচনায় প্রয়োজনে এই সংখ্যা কম বা বেশি করা যাবে।


চাকরিসংক্রান্ত কোনো বিরোধের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ৩০ দিনের মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অথবা সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আপিল করতে পারবেন। নীতিমালা বাস্তবায়নে জটিলতা দেখা দিলে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের কমিটি তা নিষ্পত্তি করবে।


উল্লেখ্য, নতুন এই নীতিমালা কার্যকর হওয়ার ফলে ২০০৬ সালের মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা বাতিল হলো।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!