মিথ্যা সাক্ষ্যের মাধ্যমে নেক আমল নষ্ট হয়ে যায়—ইসলামের কঠোর সতর্কবার্তা। ছবি: সংগৃহীত
ইসলামের দৃষ্টিতে নির্বাচন কেবল একটি নাগরিক দায়িত্ব নয়, বরং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আমানত ও সাক্ষ্য। কোরআন-হাদিসে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—ক্ষমতা ও দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে সততা, যোগ্যতা, ন্যায়পরায়ণতা ও খোদাভীতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। সে কারণে অযোগ্য, অসৎ বা দায়িত্বহীন ব্যক্তিকে ভোট দেওয়া ইসলামে গুরুতর গুনাহের শামিল হতে পারে বলে ইসলামি স্কলাররা মত দিয়েছেন।
ইসলামি গবেষণাধর্মী পত্রিকা মাসিক আল কাউসার-এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ভোট দেওয়ার মধ্যে মূলত তিনটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকে—সাক্ষ্য প্রদান, সুপারিশ এবং প্রতিনিধিত্বের অনুমোদন। এর মধ্যে সবচেয়ে মৌলিক বিষয় হলো শাহাদত বা সাক্ষ্য। অর্থাৎ কাউকে ভোট দেওয়ার মানে হলো—তার যোগ্যতা ও সৎ হওয়ার পক্ষে সাক্ষ্য দেওয়া।
যদি যোগ্য ব্যক্তিকে ভোট দেওয়া হয়, তবে তা হবে সত্য সাক্ষ্য। কিন্তু অযোগ্য ব্যক্তিকে ভোট দিলে তা মিথ্যা সাক্ষ্যের অন্তর্ভুক্ত হবে। আর মিথ্যা সাক্ষ্য ইসলামে অন্যতম বড় কবিরা গুনাহ।
কোরআনের সতর্কবার্তা
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন—
“যে ব্যক্তি সৎ কাজের জন্য সুপারিশ করে, সে তার অংশ পাবে। আর যে ব্যক্তি মন্দ কাজের জন্য সুপারিশ করে, সে তার পাপের অংশ বহন করবে।”
(সুরা নিসা: ৮৫)
এই আয়াতে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—ভালো কাজে সহায়তা করলে সওয়াব এবং মন্দ কাজে সহায়তা করলে গুনাহ অবধারিত।
আরেক আয়াতে আল্লাহ বলেন—
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা ন্যায়ের ওপর দৃঢ় থাকো এবং ন্যায়সংগত সাক্ষ্য প্রদান করো, যদিও তা তোমাদের নিজের বা নিকটাত্মীয়দের বিরুদ্ধে হয়।”
(সুরা নিসা: ১৩৫)
হাদিসে মিথ্যা সাক্ষ্যের ভয়াবহতা
সহিহ বোখারির বর্ণনায় এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) তিনবার সাহাবিদের উদ্দেশে বলেন—
“আমি কি তোমাদের সবচেয়ে বড় কবিরা গুনাহের কথা বলব?”
এরপর তিনি বলেন—
“আল্লাহর সঙ্গে শিরক করা, পিতা-মাতার অবাধ্যতা এবং শুনে রাখো—মিথ্যা সাক্ষ্য।”
(বোখারি: ৬৯১৯)
আরেক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন—
“যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও সে অনুযায়ী আমল পরিহার করে না, আল্লাহর কাছে তার পানাহার বর্জনেরও কোনো মূল্য নেই।”
(বোখারি: ১৯০৩)
ইসলামি স্কলারদের মতে, মিথ্যা সাক্ষ্যের কারণে ব্যক্তির নেক আমল পর্যন্ত নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
ভোট না দিলে কি গুনাহ হবে?
এই বিষয়ে ইসলামি চিন্তাবিদ শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, ভোট দেওয়া ফরজ বা ওয়াজিব নয়। নিজের ভেরিফায়েড ইউটিউব চ্যানেলে তিনি ব্যাখ্যা করেন—
যোগ্য প্রার্থী না থাকলে বা নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরাপদ মনে না হলে ভোট না দিলে গুনাহ হবে না। তবে ভোট দিলে অবশ্যই দ্বীন, ন্যায়বিচার, মানুষের কল্যাণ ও আমানতদারির বিষয় বিবেচনায় রেখে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নিজের সিদ্ধান্তের ফলে কেউ যদি অন্যায় সুবিধা পায়—সেটাও বিবেচনায় রাখতে হবে। অর্থাৎ ইসলামে ভোট একটি নৈতিক ও জবাবদিহিমূলক কাজ।
সারকথা
ইসলামের আলোকে অযোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেওয়া মানে মন্দ কাজে সহায়তা ও মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া—যার পরিণতি আখিরাতে শাস্তি। তাই মুসলমান হিসেবে ভোট দেওয়ার সময় সততা, ন্যায়বিচার ও আল্লাহভীতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
ইসলাম ও নির্বাচন অযোগ্য প্রার্থীকে ভোট কোরআন হাদিসের আলোকে ভোট
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!