ছবি: সবুজ নিশান
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের দশলিয়া গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আদা চন্দ্র দাস নামের এক ব্যক্তি নিহতের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্তসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন ( র্যাব)। ২২ আগস্ট বগুড়া জেলার সদর থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হল প্রধান আসামি ০১। নিপেন দাস ওরফে খইলশা (৬১), ০২। শঙ্করাজ সেন ওরফে ঠাকুর দাশ (২৮), ০৩। সত্য সেন ওরফে সত্য দাশ (২১) এবং ০৪। শংকরী রানী (৫১)।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায় যে, পারিবারিক বসতভিটার সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভুক্তভোগী আদাচন্দ্র দাসের সঙ্গে তার বড় ভাই নিপেন চন্দ্র দাসের বিরোধ চলছিল। গত ৩ জুলাই, ২০২৬ তারিখ বৃহস্পতিবার নিপেন চন্দ্র দাস বিরোধপূর্ণ জায়গায় একটি টয়লেট নির্মাণ শুরু করলে এ নিয়ে উভয় পরিবারের লোকজনের বাকবিতণ্ডা হয়। পরেরদিন, ৪ জুলাই, ২০২৬ তারিখ সকাল ১০.০০ টার দিকে পুনরায় নিপেন দাসকে টয়লেট নির্মাণ করতে নিষেধ করে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করার জন্য ভুক্তভোগীর পরিবার থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়। একইদিন দুপুরে আদা চন্দ্র দাস বাড়ির সামনে ছাগল চরাতে গেলে নিপেন চন্দ্র দাস ও তার দুই ছেলে শঙ্খরাজ ও সত্য দাসসহ পরিবারের অন্যান্য লোকজন তাকে ঘিরে ফেলে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় আদা চন্দ্র দাসকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক ভুক্তভোগী আদা দাস কে মৃত ঘোষণা করেন।
এই ঘটনায় নিহতের ছেলে বাদী হয়ে গত ৪জুলাই, ২০২৬ সাদুল্লাপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-০৪)। মামলা দায়েরের পর থেকেই অভিযুক্তরা গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যায়।
মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় আসামিদের গ্রেফতারে র্যাব-১৩ কর্তৃক গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সিপিসি-৩, র্যাব-১৩, গাইবান্ধা এবং সিপিএসসি, র্যাব- ১২, বগুড়া এর যৌথ আভিযানিক দল ২২ আগস্ট ২০২৬ তারিখ রাত ১২.৩০ ঘটিকার সময় বগুড়া জেলার সদর থানাধীন নাটাইপাড়া এলাকার জনৈক মোঃ আব্দুর রাজ্জাক বাসায় অভিযান পরিচালনা করে গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুর থানার দশলিয়া বেহারাপাড়া(রায়পাড়া) গ্রামের চাচাকে কুপিয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামি নিপেন দাস, তার দুইছেলে শঙ্খরাজ সেন ওরফে ঠাকুর দাস ও সত্য সেন ওরফে সত্য দাস এবং নিপেন দাসের স্ত্রী শংকরী রানী'দেরকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সমাজ থেকে হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধ নির্মূল এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র্যাবের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
গাইবান্ধা র্যাব আদা চন্দ্র দাস নিহত
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!