যুক্তরাষ্ট্র   বুধবার ১৪ অক্টোবর ২০২৬,২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

রেস্তোরাঁ ব্যবসার খরচ কমাতে এক জায়গায় সব লাইসেন্স চান মালিকেরা, ৯ দফা দাবি

সবুজ নিশান ডেস্ক

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪০ PM ৫৬
রেস্তোরাঁ ব্যবসার খরচ কমাতে এক জায়গায় সব লাইসেন্স চান মালিকেরা, ৯ দফা দাবি

ছবি:সংগৃহীত

রেস্তোরাঁ পরিচালনার জন্য বিভিন্ন সরকারি দপ্তর থেকে আলাদা আলাদা অনুমোদন নেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করতে একক লাইসেন্সিং ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের মতে, একাধিক দপ্তরে ঘুরে অনুমোদন নেওয়ার কারণে সময় ও অর্থ দুটিই বেশি ব্যয় হচ্ছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি ৯ দফা দাবি তুলে ধরে। এসব দাবির মধ্যে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু, লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া ডিজিটাল করা এবং ব্যবসাবান্ধব কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয় রয়েছে।

সমিতির নেতারা জানান, বর্তমানে একটি রেস্তোরাঁ চালু ও পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রায় ১০ থেকে ১২ ধরনের অনুমোদন বা লাইসেন্সের প্রয়োজন হয়। বিভিন্ন সংস্থার পৃথক প্রক্রিয়ার কারণে উদ্যোক্তাদের অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে জটিল প্রশাসনিক ব্যবস্থার কারণে সরকারি তদারকিও কার্যকরভাবে করা কঠিন হচ্ছে।

রেস্তোরাঁ খাতকে একটি সমন্বিত কমপ্লায়েন্স কাঠামোর আওতায় আনার প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করার দাবি জানানো হয়েছে।

রেস্তোরাঁ মালিকেরা ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়নসহ বিভিন্ন সেবা ডিজিটাল করার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার লাইসেন্সিং সেবাগুলোকে কেন্দ্রীয় বিনিয়োগ সেবা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়টিকেও ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তাঁরা।

তবে সম্প্রতি রেস্তোরাঁ ব্যবসার ক্ষেত্রে নতুন লাইসেন্সিং শর্ত যুক্ত হওয়ায় ব্যবসায়ীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে বলে দাবি করেছে সমিতি।

সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, মাছ, মাংস, ভোজ্যতেল ও সবজির দাম বাড়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ, এলপিজি ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় রেস্তোরাঁ পরিচালনার খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

তাঁর দাবি, ব্যয় বাড়লেও গ্রাহক কমে যাওয়ার আশঙ্কায় খাবারের দাম একই অনুপাতে বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে অনেক রেস্তোরাঁয় বিক্রি কমেছে।

এ পরিস্থিতিতে জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ এবং যৌক্তিক মূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

রেস্তোরাঁয় সরকারি সংস্থার অভিযানের সময় মালিক সমিতির একজন প্রতিনিধিকে উপস্থিত রাখার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় জরিমানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক প্রচারণা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

ভ্যাট সংক্রান্ত বিষয়ে হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়ে সমিতি বলেছে, কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী নোটিশ, শুনানি এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তি করা উচিত।

মাঠপর্যায়ে ভ্যাট কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে।

রেস্তোরাঁ খাতে কাঁচামালের ব্যয় কমাতে সরকারি তত্ত্বাবধানে গরুর মাংস আমদানির অনুমতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সমিতি। একই সঙ্গে চাঁদাবাজি এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে ব্যবসায়ীদের হয়রানি বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে।

২০২২ সালে রেস্তোরাঁ শিল্পকে স্বতন্ত্র শিল্পখাত হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সময় যেসব কর ও ভ্যাট সুবিধার কথা বলা হয়েছিল, সেগুলো বাস্তবায়নের দাবিও করেছে সংগঠনটি।

রেস্তোরাঁ খাতের উন্নয়নে সরকারি সহায়তায় প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর প্রস্তাব দিয়েছে মালিক সমিতি। পাশাপাশি বিশেষায়িত হসপিটালিটি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা এবং কর্মীদের জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়েছে।

সমিতির নেতারা বলেন, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের রেস্তোরাঁ শিল্পের মান উন্নয়নের পাশাপাশি বাংলাদেশি খাবারকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে।

তাঁরা সতর্ক করে বলেন, দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া হলে ভবিষ্যতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বড় পরিসরে রেস্তোরাঁ বন্ধ হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীদের দাবি

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!