ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঘিরে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। আন্দোলনকারীদের অবস্থানের কারণে নিজ কার্যালয়ে টানা ২২ ঘণ্টা ধরে আটকে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। এর মধ্যে প্রশাসনিক ভবনে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ থাকায় ভেতরে অবস্থানরত শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। মঙ্গলবার সকালেও শিক্ষার্থীদের ঘোষিত ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি চলছিল।
সোমবার সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলন করে নবনিযুক্ত উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এরপর তাঁরা প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেন। রাত পেরিয়ে মঙ্গলবার সকালেও তাঁদের কর্মসূচি অব্যাহত ছিল। এই পরিস্থিতিতে ভবনের ভেতরে আটকে থাকা ব্যক্তিদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ার খবর পাওয়া যায়।
সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসাসূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে ভেতরে থাকা কয়েকজন অসুস্থ বোধ করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসক মো. আবদুল্লাহ গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশ করেন। সেখানে প্রকৌশলী শাহরিয়ারের রক্তচাপ মেপে ১৭০/১০০ মিলিমিটার পারদ পান। জরুরি চিকিৎসার জন্য তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসক। এ ছাড়া আরও একজনের অসুস্থ হওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে।
উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম জানিয়েছেন, তিনি নিজে শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন। তবে তাঁর সঙ্গে থাকা দুজন সাবেক শিক্ষার্থী বা অ্যালামনাই সদস্য উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যায় ভুগছেন। তাঁদের চিকিৎসার জন্য তিনি অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসকের সহায়তা চেয়েছেন। দীর্ঘ সময় আটকে থাকা এবং খাবার না পাওয়ায় ভেতরে থাকা অন্যরাও ক্লান্তি ও শারীরিক অস্বস্তিতে পড়েছেন বলে তিনি জানান।
চুয়েটে বর্তমান সংকটের সূত্রপাত নতুন উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে। গত ২১ সেপ্টেম্বর খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। এর পরদিন থেকেই আগের উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণের প্রতিবাদ এবং তাঁকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের কর্মসূচির পাশাপাশি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মবিরতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমও দীর্ঘদিন ধরে ব্যাহত হচ্ছে। সরবরাহ করা তথ্য অনুযায়ী, প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে চুয়েটে ক্লাস, পরীক্ষা ও অন্যান্য শিক্ষাসংশ্লিষ্ট কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। উপাচার্যকে ঘিরে চলমান অবরোধের ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
চুয়েট শেখ শরীফুল আলম চুয়েট উপাচার্য
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!