যুক্তরাষ্ট্র   বুধবার ১৭ জুন ২০২৬,২ আষাঢ় ১৪৩৩

সিমের ৩০০ টাকার কর প্রত্যাহারের প্রস্তাব, আইসিটি খাতে বড় ছাড়ের ঘোষণা

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ জুন ২০২৬, ০৫:৫০ PM

১৫
সিমের ৩০০ টাকার কর প্রত্যাহারের প্রস্তাব, আইসিটি খাতে বড় ছাড়ের ঘোষণা

ছবিঃ সংগৃহীত

ঢাকা: দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশ ত্বরান্বিত করতে এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে একাধিক কর ও শুল্ক ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত প্রস্তাব হলো মোবাইল সিমের ওপর আরোপিত ৩০০ টাকার সুনির্দিষ্ট কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সাধারণ মানুষের জন্য মোবাইল সেবা আরও সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করতে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে নতুন সিম কেনার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের অতিরিক্ত কর বহন করতে হবে না।

অর্থমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, সিম কর প্রত্যাহারের ফলে সরকারের প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার রাজস্ব কমতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে ডিজিটাল সেবার বিস্তার, নতুন গ্রাহক বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির সম্প্রসারণের মাধ্যমে এর ইতিবাচক প্রভাব দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাজেট বক্তৃতায় তিনি জানান, বর্তমানে দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে করের বোঝা তুলনামূলকভাবে বেশি। টেলিকম সেক্টরে মোট করের হার প্রায় ৫০ শতাংশ এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রায় ২৫ শতাংশ। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এসব কর ধীরে ধীরে যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) লাইসেন্স ফি এবং রেভিনিউ শেয়ারের ওপর আরোপিত ২০ শতাংশ উৎসে কর প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবার ক্ষেত্রে উৎসে কর কর্তনের হার ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ফোন কল, এসএমএস এবং ইন্টারনেট ডাটা সেবার ক্ষেত্রে এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে।

স্থানীয় শিল্পের বিকাশে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বাজেটে মোবাইল হ্যান্ডসেট উৎপাদন খাতেও নতুন সুবিধা দেওয়া হয়েছে। দেশে মোবাইল ফোন উৎপাদনে ব্যবহৃত ২২ ধরনের কাঁচামালের ওপর উৎসে কর কমিয়ে ১ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি এই শিল্পে বিদ্যমান ভ্যাট অব্যাহতির মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে দেশে প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ বাড়বে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং স্থানীয় উৎপাদন আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে। বিশেষ করে স্মার্টফোন উৎপাদন ও ডিজিটাল সেবা খাতে দেশীয় উদ্যোক্তারা বাড়তি সুবিধা পাবেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে আইসিটি ও টেলিকম খাত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। অথচ বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) এই খাতের অবদান এখনো মাত্র ১ থেকে ২ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ। সরকারের লক্ষ্য আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এ অবদান ১০ শতাংশে উন্নীত করা।

তিনি আরও বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে কেন্দ্র করে উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং ডিজিটাল সেবার বিস্তার ঘটাতে কর ও নীতিগত সংস্কার অব্যাহত থাকবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশকে প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির দিকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

প্রস্তাবিত বাজেটে আইসিটি ও টেলিযোগাযোগ খাতে কর ছাড়ের এই উদ্যোগকে দেশের ডিজিটাল রূপান্তর কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মহলের আশা, বাজেট অনুমোদনের পর এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে প্রযুক্তি খাতের বিকাশে নতুন গতি সঞ্চার হবে এবং সাধারণ গ্রাহকরাও সরাসরি উপকৃত হবেন।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!