হিজরি নববর্ষ উপলক্ষে দেশবাসী ও মুসলিম উম্মাহর প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। | ছবি: সংগৃহীত
পবিত্র হিজরি নববর্ষ উপলক্ষে দেশবাসী এবং বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। নতুন হিজরি বছরকে আত্মশুদ্ধি, ন্যায়বিচার, সততা ও মানবকল্যাণের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হওয়ার একটি নতুন সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নতুন হিজরি বছর মুসলিম উম্মাহর জন্য শুধু একটি নতুন বছরের সূচনা নয়, বরং আত্মসমালোচনা, আত্মশুদ্ধি এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে নতুনভাবে পথচলা শুরু করারও একটি উপলক্ষ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন বছর সবার জীবনে শান্তি, কল্যাণ ও নৈতিকতার বার্তা নিয়ে আসবে।
দেশের আকাশে ১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় বুধবার থেকে নতুন হিজরি বছরের গণনা শুরু হচ্ছে। এ উপলক্ষে দেওয়া বার্তায় জামায়াত আমির হিজরি সনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এবং তাঁর সাহাবিদের মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে হিজরি সনের প্রচলন করা হয়। মুসলিম ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে এই সনের গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, হিজরত কেবল ভৌগোলিক স্থানান্তর ছিল না; এটি ছিল জুলুম, অন্যায় ও অসত্যের বিরুদ্ধে সত্য, ন্যায় এবং ইনসাফ প্রতিষ্ঠার এক ঐতিহাসিক সংগ্রাম। ইসলামী সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে হিজরতের ঘটনা মানব ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় পরিবর্তনের অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।
বিবৃতিতে ডা. শফিকুর রহমান বিদায়ী হিজরি বছরের ভুল-ত্রুটি, ব্যর্থতা ও গ্লানি থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নতুন বছরে ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ইসলামের ন্যায়ভিত্তিক আদর্শকে ধারণ করার অঙ্গীকার করতে হবে। একই সঙ্গে সমাজে নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি এবং দেশের সামগ্রিক প্রেক্ষাপটের কথা উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ঐক্য, ভ্রাতৃত্ববোধ ও পারস্পরিক সহযোগিতার প্রয়োজন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। হিজরতের ত্যাগ, ধৈর্য ও কোরবানির শিক্ষা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সমাজ থেকে অন্যায়, দুর্নীতি, বৈষম্য ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড দূর করতে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
তিনি জাতির মধ্যে সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করে বলেন, দেশ যেন সব ধরনের সংকট, অস্থিরতা ও বিভেদ থেকে মুক্ত থাকে এবং জনগণ শান্তি ও নিরাপত্তার পরিবেশে বসবাস করতে পারে।
বিবৃতির শেষাংশে ডা. শফিকুর রহমান একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি বিশ্বব্যাপী নিপীড়িত ও সংকটে থাকা মুসলিম জনগোষ্ঠীর শান্তি, নিরাপত্তা ও কল্যাণ কামনা করেন।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!