যুক্তরাষ্ট্র   বুধবার ১৭ জুন ২০২৬,২ আষাঢ় ১৪৩৩

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন, অনিয়মের অভিযোগে তত্ত্বাবধায়ক ক্লোজড

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬ জুন ২০২৬, ১০:০০ PM

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন, অনিয়মের অভিযোগে তত্ত্বাবধায়ক ক্লোজড

নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনকালে বিভিন্ন বিভাগের কার্যক্রম ঘুরে দেখেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। | ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শন চালিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। পরিদর্শনকালে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। পরে হাসপাতাল পরিচালনায় ব্যর্থতার অভিযোগে তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীকে ক্লোজড করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রথমেই চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের উপস্থিতি যাচাই করেন। এ সময় হাজিরা খাতা ও ডিউটি রোস্টার পরীক্ষা করে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর দেরিতে কর্মস্থলে উপস্থিত হওয়ার বিষয়টি নজরে আসে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখার পাশাপাশি তিনি চিকিৎসাসেবার মান, ওষুধ সরবরাহ, পরিচ্ছন্নতা এবং রোগীদের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেন।

মন্ত্রীর উপস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনরা সরাসরি তাদের অভিযোগ তুলে ধরেন। তারা অভিযোগ করেন, হাসপাতালে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে রোগীদের দালালচক্রের মাধ্যমে হয়রানির শিকার হতে হয়। এছাড়া রোগীদের জন্য সরবরাহ করা খাবারের নিম্নমান, টয়লেটের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতার কথাও তুলে ধরেন তারা। কয়েকজন স্বজন অভিযোগ করেন, কিছু ক্ষেত্রে হাসপাতালের সেবা গ্রহণে অনাকাঙ্ক্ষিত আর্থিক লেনদেনের চাপও রয়েছে।

পরিদর্শনের একপর্যায়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ, প্যাথলজি ল্যাব, পুরুষ ও নারী ওয়ার্ড, রোগীদের খাবার সরবরাহ ব্যবস্থা এবং হাসপাতালের স্যানিটেশন ব্যবস্থার বাস্তব চিত্র পর্যবেক্ষণ করেন। বিভিন্ন স্থানে অব্যবস্থাপনা দেখে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

মন্ত্রীর আকস্মিক সফরের পর হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে তাৎক্ষণিক তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে নেমে পড়েন এবং বিভিন্ন ইউনিটে দায়িত্বশীলদের উপস্থিতিও বৃদ্ধি পায়। তবে দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানে স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন রোগী ও স্থানীয়রা।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিদর্শনের শেষ দিকে সাবেক তত্ত্বাবধায়কের কক্ষ থেকে বের হওয়ার পর হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তত্ত্বাবধায়কের প্রত্যাহারাদেশ বাতিলের দাবিতে তার সমর্থক হিসেবে পরিচিত কয়েকজন বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এ সময় হাসপাতাল প্রাঙ্গণে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা দেখা দিলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্য খাতে নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির কারণে দেশের অনেক সরকারি হাসপাতাল জটিল সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে। বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে উদ্বেগজনক চিত্র পাওয়া যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে রোগীদের জন্য মানবিক ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বেশ কিছু ঘাটতি রয়েছে। হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য নতুন ভবনের নির্মাণকাজ চললেও এর অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়। সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় যে দুর্বলতা ও অব্যবস্থাপনা দেখা গেছে, তার দায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এড়াতে পারে না। সেই কারণেই হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ককে ক্লোজড করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোতে সেবার মান উন্নয়ন, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং রোগীবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। অনিয়ম ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ সময় নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন, জেলা সিভিল সার্জন ডা. আনার হোসেনসহ স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!