যুক্তরাষ্ট্র   বুধবার ১৭ জুন ২০২৬,২ আষাঢ় ১৪৩৩

বাবা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ দাবি করা এমপি মুনতাকিমের জন্ম ১৯৮১ সালে, বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬ জুন ২০২৬, ১০:১৯ PM

বাবা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ দাবি করা এমপি মুনতাকিমের জন্ম ১৯৮১ সালে, বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক

জাতীয় সংসদে বক্তব্য দিচ্ছেন নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম। | ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে দেওয়া এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম। পরিবারের মুক্তিযুদ্ধের অবদান তুলে ধরতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, তার বাবা ও দাদা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। তবে তার প্রকাশিত জন্মসালের তথ্যের সঙ্গে ওই বক্তব্যের সামঞ্জস্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় আব্দুল মুনতাকিম বলেন, “আমার বাবা, আমার দাদা যুদ্ধে শহীদ। আমার আব্বারা (বাবা-চাচা) সাত ভাই, চারজন মুক্তিযোদ্ধা। আমার দাদারা ১৯ জন, ১১ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার পরিবারে ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধা রয়েছে। আমার মা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন।”

সংসদে দেওয়া এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই তার পরিবারের মুক্তিযুদ্ধে অবদানের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তবে কিছু সময়ের মধ্যেই তার জন্মসাল নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

নির্বাচনী হলফনামা এবং বিভিন্ন উন্মুক্ত তথ্যসূত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আব্দুল মুনতাকিমের জন্ম ১৯৮১ সালের ১০ জানুয়ারি। সে হিসাবে স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রায় এক দশক পরে তার জন্ম হয়েছে। এ কারণেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনেক ব্যবহারকারী প্রশ্ন তুলেছেন, যদি তার বাবা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়ে থাকেন, তাহলে ১৯৮১ সালে তার জন্ম কীভাবে সম্ভব হলো।

বিষয়টি নিয়ে ফেসবুক, এক্স (সাবেক টুইটার) এবং বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ব্যাপক আলোচনা চলছে। কেউ কেউ মনে করছেন, সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি হয়তো ভাষাগত বিভ্রান্তির কারণে বক্তব্যটি দিয়েছেন অথবা পরিবারের অন্য কোনো সদস্যের প্রসঙ্গ উল্লেখ করতে গিয়ে ভুলভাবে উপস্থাপন করেছেন। আবার অনেকে এ বিষয়ে তার পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা চেয়েছেন।

তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আব্দুল মুনতাকিম বা তার কার্যালয়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ফলে বক্তব্যে কোনো তথ্যগত ভুল ছিল কি না, কিংবা তিনি অন্য কোনো প্রেক্ষাপটে মন্তব্যটি করেছিলেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জনসম্মুখে দেওয়া বক্তব্যে ঐতিহাসিক ও পারিবারিক তথ্য উপস্থাপনের ক্ষেত্রে যথাযথ সতর্কতা প্রয়োজন। কারণ এ ধরনের বক্তব্য পরবর্তীতে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং অপ্রয়োজনীয় বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক চললেও মুনতাকিমের পরিবারের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ বা অবদানের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো নতুন তথ্য এখনো প্রকাশ হয়নি। বিষয়টি নিয়ে তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা ব্যাখ্যার অপেক্ষায় রয়েছেন অনেকেই।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!