বরিশালে যুবককে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় অভিযুক্ত জাকির হোসেনকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। | ছবি: সংগৃহীত
বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই এলাকায় মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ার অভিযোগে এক যুবককে প্রকাশ্যে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় অভিযুক্ত এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত জাকির হোসেনের কাছ থেকে হামলায় ব্যবহৃত একটি রামদাও উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে চরমোনাই ইউনিয়নের গীলাতলী আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকা থেকে অভিযুক্ত জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানা এ অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে একটি ধারালো দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার সকালে গীলাতলী আশ্রয়ণ প্রকল্পের সামনে অমনি ওরফে রমেশ নামের এক যুবকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক বিক্রির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় এবং অভিযুক্তের কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ায় রমেশের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন জাকির হোসেন।
আহত রমেশের অভিযোগ, তিনি স্থানীয়ভাবে মাদক বিক্রির বিরোধিতা করে আসছিলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্ত তাকে নানা উপায়ে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন। ঘটনার আগের রাতে তাকে ইয়াবা সেবনে প্রলুব্ধ করে নিজের পক্ষে আনার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি তাতে রাজি না হলে পরদিন সকালে ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালানো হয়।
হামলায় গুরুতর আহত রমেশকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে দ্রুত বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে তার চিকিৎসা চলছে বলে জানা গেছে। চিকিৎসকদের মতে, হামলায় তিনি শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন।
ঘটনার পর আহত যুবক নিজেই বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালায়। পরে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জাকির হোসেনকে আটক করা হয়।
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম বলেন, যুবককে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় মামলা রুজু হয়েছে এবং প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পূর্বেও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে এবং তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এলাকায় মাদক ব্যবসা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ থাকলেও ভয় ও নিরাপত্তাজনিত কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না। তারা আশা করছেন, এই ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে হামলার ঘটনায় জড়িত অন্য কেউ থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!