সিলেটে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়। | ছবি: সংগৃহীত
সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দান ও মানতের অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে নিয়মিত আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। তিনি বলেন, এখন থেকে প্রতি মাসে দানবাক্স খুলে প্রাপ্ত অর্থের পূর্ণাঙ্গ হিসাব গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সামনে প্রকাশ করা হবে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের উন্নয়ন মহাপরিকল্পনা (মাস্টারপ্ল্যান) প্রণয়নে করণীয় নির্ধারণ বিষয়ক এক সভায় তিনি এ ঘোষণা দেন।
জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, সরকার মাজারকে কেন্দ্র করে একটি সমন্বিত মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যার আওতায় মাজার, মসজিদ ও মাদ্রাসার অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। এর মধ্যে নান্দনিক মসজিদ নির্মাণ, নারীদের জন্য পৃথক নামাজের স্থান, আধুনিক লাইব্রেরি স্থাপন এবং মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য কম্পিউটার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ভক্ত-অনুরাগীদের জন্য পর্যাপ্ত সুবিধা না থাকায় তারা নানা ধরনের ভোগান্তির সম্মুখীন হন। তাই মাজার এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম বৃদ্ধি এবং টয়লেটসহ মৌলিক সুবিধা উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
দান-মানতের অর্থ ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে ডিসি সারওয়ার আলম বলেন, সরকার দানের অর্থ গ্রহণ করে না। তবে জনগণের দানকৃত অর্থের স্বচ্ছ হিসাব রাখা বাধ্যতামূলক। এখন থেকে মাজার কমিটি ও ওয়াকফ প্রশাসন যৌথভাবে হিসাব সংরক্ষণ করবে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ১৫ দিন পর দানবাক্স খোলা হবে এবং নির্ধারিত সময় পর প্রতি মাসে আয়ের হিসাব প্রকাশ করা হবে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এখন থেকে দানবাক্স ছাড়া অন্য কোনো মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করা যাবে না এবং হাতেহাতে কোনো লেনদেনও সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। দানবাক্স খোলার সময় ভিডিও ও ছবি সংরক্ষণ করা হবে এবং লকারের চাবি নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের কাছে থাকবে।
সভায় মাজারের খাদেম পরিবারের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, সরকার কোনো অর্থনৈতিক সুবিধা নিতে চায় না; বরং ঐতিহ্য ও ধর্মীয় মর্যাদা বজায় রেখে একটি স্বচ্ছ ও আধুনিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে চায়।
সভায় আরও জানানো হয়, মাজার এলাকায় পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধার অভাব, হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর ব্যবহৃত সামগ্রী সংরক্ষণের জন্য মিউজিয়াম না থাকা এবং নিরাপত্তাজনিত সমস্যাগুলো দীর্ঘদিন ধরে ভক্তদের ভোগান্তির কারণ হয়ে আছে। এসব সমস্যা সমাধানে সিসিটিভি স্থাপন, নিরাপত্তা জোরদার এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও আধুনিকায়নের সমন্বয়ে একটি সমন্বিত কমপ্লেক্স নির্মাণের বিষয়ে সবাই একমত। তিনি জানান, সিউকের প্রথম বড় প্রকল্প হিসেবে মাজার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
সভায় সিলেটের পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!