যুক্তরাষ্ট্র   বুধবার ১৭ জুন ২০২৬,২ আষাঢ় ১৪৩৩

দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি দীর্ঘ-পাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালাল ভারত

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬ জুন ২০২৬, ১০:০২ PM

দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি দীর্ঘ-পাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালাল ভারত

ওডিশার ড. এপিজে আবদুল কালাম দ্বীপ থেকে সফলভাবে পরীক্ষিত হয় ভারতের দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। | ছবি: সংগৃহীত

দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি দীর্ঘ-পাল্লার স্থল হামলা সক্ষম ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে ভারত। দেশটির প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও) জানিয়েছে, সোমবার (১৫ জুন) ওডিশা উপকূলের ড. এপিজে আবদুল কালাম দ্বীপ থেকে এই সফল উড্ডয়ন পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়।

প্রতিরক্ষা সূত্র অনুযায়ী, পরীক্ষিত ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ১,০০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে। এটি ভারতের দীর্ঘদিনের উন্নয়নাধীন ক্রুজ মিসাইল কর্মসূচির একটি উন্নত সংস্করণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ডিআরডিও জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটির সব প্রধান উপ-ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি করা হয়েছে। পরীক্ষার সময় ভারতীয় নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। পরীক্ষার মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্রটির নেভিগেশন, গাইডেন্স ও লক্ষ্যভেদ সক্ষমতা সফলভাবে যাচাই করা হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ক্ষেপণাস্ত্রটি পূর্ববর্তী ‘নির্ভয়’ ক্রুজ মিসাইল প্রকল্পের উন্নত সংস্করণ হতে পারে। নতুন সংস্করণে এর পাল্লা, নির্ভুলতা এবং অপারেশনাল সক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন আনা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাবসনিক গতির এই ধরনের ক্রুজ মিসাইল কম উচ্চতায় উড়তে সক্ষম হওয়ায় শত্রুপক্ষের রাডার সনাক্তকরণ এড়িয়ে দীর্ঘ দূরত্বে নির্ভুল হামলা চালাতে পারে।

পরীক্ষা শেষে ডিআরডিও জানায়, মিশনের সব উদ্দেশ্য সফলভাবে অর্জিত হয়েছে এবং বিভিন্ন ট্র্যাকিং সিস্টেমের তথ্য ক্ষেপণাস্ত্রটির কার্যকারিতা নিশ্চিত করেছে। পরীক্ষাটি ভারতের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং সফল পরীক্ষার জন্য ডিআরডিও এবং সংশ্লিষ্ট গবেষণা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই অর্জন দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সামরিক বিশ্লেষকদের ধারণা, আগামী দুই বছরের মধ্যে আরও কয়েক দফা পরীক্ষা সম্পন্ন করে এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ভারতীয় সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। এতে করে স্থলভিত্তিক দূরপাল্লার নির্ভুল হামলার সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, আধুনিক সামরিক কৌশলে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। কম উচ্চতায় উড্ডয়ন, দীর্ঘ পাল্লা এবং উচ্চ নির্ভুলতার কারণে এটি সমসাময়িক যুদ্ধ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!