যুক্তরাষ্ট্র   বুধবার ১৭ জুন ২০২৬,২ আষাঢ় ১৪৩৩

হলফনামা বিতর্কে নতুন আলোচনা, এমপি পদ বাতিলের দাবি তুললেন রাশেদ খাঁন

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ জুন ২০২৬, ০৩:৩৪ PM

হলফনামা বিতর্কে নতুন আলোচনা, এমপি পদ বাতিলের দাবি তুললেন রাশেদ খাঁন

হাতিয়ার সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ ও বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন। ছবি: সংগৃহীত

হাতিয়া আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ-এর নির্বাচনী হলফনামা নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন দাবি করেছেন, হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে হান্নান মাসউদের সংসদ সদস্য পদ বাতিল হতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি তুলে ধরেন, যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে রাশেদ খাঁন বলেন, সম্প্রতি একটি টেলিভিশন টকশোতে অংশ নিয়ে হান্নান মাসউদ নিজেই হলফনামায় অসত্য তথ্য উল্লেখ করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তার দাবি, ভবিষ্যতে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং আয়কর সংক্রান্ত সুবিধার কথা বিবেচনা করে আইনজীবীর পরামর্শে কিছু তথ্য ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল বলে এমপি নিজেই মন্তব্য করেছেন।

রাশেদ খাঁন তার পোস্টে উল্লেখ করেন, যদি কোনো প্রার্থী নির্বাচনী হলফনামায় ভুল বা মিথ্যা তথ্য প্রদান করেন এবং পরবর্তীতে তা তদন্তে প্রমাণিত হয়, তাহলে আইন অনুযায়ী তার প্রার্থিতা বাতিল হওয়ার পাশাপাশি সংসদ সদস্য পদও হারাতে পারেন। এ বিষয়ে তিনি অতীতে নির্বাচন কমিশনের এক বক্তব্যেরও উল্লেখ করেন, যেখানে হলফনামায় মিথ্যা তথ্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলা হয়েছিল।

বিএনপি নেতার অভিযোগ, হান্নান মাসউদের আর্থিক অবস্থা এবং সম্পদ সংক্রান্ত বিভিন্ন বক্তব্যের সঙ্গে তার হলফনামায় দেওয়া তথ্যের অসঙ্গতি রয়েছে। তিনি দাবি করেন, জনসমক্ষে দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্য এবং নির্বাচনী নথিতে উল্লেখিত তথ্যের মধ্যে পার্থক্য থাকলে সেটি তদন্তের দাবি রাখে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফল প্রকাশিত হয়নি। নির্বাচন কমিশনও এ বিষয়ে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত বা মন্তব্য দেয়নি। ফলে রাশেদ খাঁনের দাবি বর্তমানে রাজনৈতিক বক্তব্য ও অভিযোগের পর্যায়েই রয়েছে।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে হান্নান মাসউদের বক্তব্য জানতে গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার অবস্থান এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি।

নির্বাচনী হলফনামা বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রার্থীদের সম্পদ, দায়-দেনা, আয় এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য ভোটারদের সামনে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। ফলে এসব নথিতে সঠিক তথ্য প্রদান করা আইনগত ও নৈতিক উভয় দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন নির্বাচন বিশ্লেষকরা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে কাউকে দোষী হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। তবে নির্বাচন সংক্রান্ত নথিপত্রে তথ্যগত অসঙ্গতির অভিযোগ উঠলে তা যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

বর্তমানে বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিলেও এমপি পদ বাতিলের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে তদন্ত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবস্থান স্পষ্ট হওয়ার আগ পর্যন্ত বিষয়টি অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের পর্যায়েই রয়েছে।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!