যুক্তরাষ্ট্র   শুক্রবার ১৬ অক্টোবর ২০২৬,৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

হুথি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা চাইল সৌদি আরব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫০ PM ৪০
হুথি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা চাইল সৌদি আরব

ছবি: সংগৃহীত

ইয়েমেনের ইরানপন্থী হুথিদের বিরুদ্ধে অবস্থান জোরদারে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চেয়েছেন সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান। বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে অন্তত দুই দফা ফোনালাপে তিনি এ বিষয়ে সহযোগিতা চান বলে সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্র শুক্রবার জানিয়েছে।

তবে হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি মার্কিন সামরিক হামলার বিষয়ে ট্রাম্প সম্মতি দেননি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু শনাক্তে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে ওয়াশিংটন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

হোয়াইট হাউস ট্রাম্প ও সৌদি যুবরাজের ফোনালাপ নিয়ে কোনো সরাসরি মন্তব্য করেনি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সৌদি আরব ও ইয়েমেন সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখা এবং যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষা করাই ওয়াশিংটনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলেও জানান তিনি।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যেই মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বৃহস্পতিবার সৌদি আরব সফর করেন। সেখানে সৌদি কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার বৈঠক হয়েছে বলে দুটি সূত্র জানিয়েছে। ট্রাম্পের কাছে সৌদি যুবরাজের সামরিক সহায়তা চাওয়ার বিষয়টি প্রথম প্রকাশ করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।

এদিকে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলে হুথিদের তৎপরতা বাড়ছে। শুক্রবার ইয়েমেন সরকারের চারটি সূত্র দাবি করেছে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে হুথিরা। বিশ্লেষকদের মতে, এমন পরিস্থিতি ইরানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুবিধা তৈরি করতে পারে।

বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে পরিস্থিতির অবনতি হলে হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনপথে বাধা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাব পড়তে পারে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে এবং তেলের দাম আরও বেড়ে যেতে পারে।

ইরানের সঙ্গে সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সৌদি আরবের জন্য লোহিত সাগর হয়ে তেল পরিবহনের গুরুত্বও বেড়েছে। বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল রপ্তানিকারক দেশটির জন্য এ পথ বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প রুট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

রিয়াদ ও হুথিদের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার সূত্রপাত জুলাইয়ের শুরুতে। ওই সময় হুথিরা অভিযোগ করে, সৌদি যুদ্ধবিমান ইয়েমেনের সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরানের একটি বেসামরিক বিমান অবতরণ ঠেকানোর চেষ্টা করেছে। এরপর দুই পক্ষের সংঘর্ষে চার বছরের যুদ্ধবিরতি ভেঙে যায়।

সংশ্লিষ্ট এক সাবেক মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিতে হুথিদের ওপর মার্কিন সামরিক চাপ বাড়ানোর সম্ভাবনাও বিবেচনা করছে সৌদি নেতৃত্ব। তবে এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটন সরাসরি সামরিক অভিযানে সম্মতি দেয়নি।

এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালায়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী হামলা এবং লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় এরই মধ্যে হাজারো মানুষ নিহত ও লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

হুথি

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!