যুক্তরাষ্ট্র   বুধবার ১৪ অক্টোবর ২০২৬,২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

বাহরাইনের আপত্তি, হরমুজ নিয়ে ইরানের বৈঠরে থাকছে না দেশটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৩ PM ৪৬
বাহরাইনের আপত্তি, হরমুজ নিয়ে ইরানের বৈঠরে থাকছে না দেশটি

ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের যে আলোচনা করার কথা রয়েছে, তাতে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে বাহরাইন। সোমবার ওমানের রাজধানী মাস্কাটে এই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান সংঘাতের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। প্রণালিটি দিয়ে জাহাজ চলাচলও কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পরামর্শের উদ্যোগ হিসেবে বৈঠকটি ডেকেছে তেহরান।

ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করাই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য। তেহরানের ভাষায়, এই বৈঠকের প্রস্তাব তাদের সদিচ্ছার পরিচয় বহন করে।

তবে বাহরাইন এতে সাড়া দেয়নি। শনিবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘যা কিছু প্রচার করা হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে বাহরাইন এতে অংশ নেবে না।’

আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে বাহরাইন জানিয়েছে, তোষণনীতির মাধ্যমে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে কোনো বৈষম্য, ফি বা আলাদা অনুমতি ছাড়াই হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছে দেশটি।

হরমুজকে ঘিরে ইরানের অবস্থান নিয়েও আপত্তি রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রণালিটির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও সুসংহত করার চেষ্টা করছে তেহরান। এর অংশ হিসেবে সেখানে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ফি বসানোর বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনা চলছে। কারণ প্রণালিটির একটি অংশ ওমানের আঞ্চলিক জলসীমার মধ্যে রয়েছে।

বাহরাইন জানিয়েছে, কূটনৈতিক আলোচনার প্রতি তাদের আগ্রহ রয়েছে। কিন্তু ইরানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপিত না হওয়া পর্যন্ত দেশটিকে নিয়ে কোনো যৌথ আলোচনায় অংশ নেবে না তারা।

২০১৬ সালে আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের সঙ্গে একই সময়ে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিল বাহরাইন। পরে ২০২৩ সালে সৌদি আরব তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ফিরিয়ে আনলেও বাহরাইন এখনো ইরানের সঙ্গে সেই সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করেনি।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই শনিবার আল-জাজিরাকে বলেন, মাস্কাটে আলোচনার উদ্যোগটি ইরানের সদিচ্ছার প্রকাশ। তাঁর মতে, বাইরের কোনো দেশের হস্তক্ষেপ ছাড়া আঞ্চলিক দেশগুলোর নিজেদের মধ্যেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করা উচিত।

বাঘাই বলেন, ‘এটি একটি ইঙ্গিত যে আমরা আমাদের প্রতিবেশীদের সঙ্গে আলোচনা করব—যদিও ইরানকে আক্রমণ করার জন্য তাদের ভূখণ্ড, তাদের সামরিক ঘাঁটি কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করা হয়েছিল।’

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে ইরান ও ওমানের আলোচনায় যে অগ্রগতি হয়েছে, তা মাস্কাটের বৈঠকে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিদের জানানো হবে বলেও জানান তিনি।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বক্তব্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, মাস্কাটের বৈঠকটি বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে হরমুজ প্রণালি নিয়ে সেখানে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমও ইরান-ওমানের সমঝোতা নিয়ে তথ্য প্রকাশ করেছে। তবে সরবরাহ করা প্রতিবেদনের শেষ অংশ অসম্পূর্ণ থাকায় এ বিষয়ে অতিরিক্ত কোনো তথ্য নিশ্চিতভাবে উপস্থাপন করা যাচ্ছে না।

বাহরাইন

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!