আটলান্টিক মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দের রাজধানী প্রাইয়া। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে ভ্রমণের নিয়মে পরিবর্তন এসেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পাসপোর্ট সূচকে দেশটিকে বাংলাদেশিদের জন্য ভিসামুক্ত গন্তব্য হিসেবে উল্লেখ করা হলেও বর্তমানে সেখানে আগাম ভিসা ছাড়া প্রবেশের সুযোগ নেই। ফলে কেপ ভার্দে ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে বাংলাদেশি নাগরিকদের আগে থেকেই ভিসা সংগ্রহ করতে হবে।
দেশটির সরকারি অভিবাসন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৯১টি দেশের নাগরিকদের কেপ ভার্দেতে প্রবেশ, ট্রানজিট কিংবা বিমানবন্দরে যাত্রাবিরতির ক্ষেত্রেও আগাম ভিসা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ভিসা ছাড়া দেশটিতে পৌঁছালে প্রবেশ বা ট্রানজিটের অনুমতি প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে।
সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ভিসার জন্য আবেদন করতে হলে আবেদনকারীকে নিজ দেশের নিকটতম কেপ ভার্দের দূতাবাস বা কনস্যুলারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। যেহেতু বাংলাদেশে কেপ ভার্দের কোনো দূতাবাস নেই, তাই বাংলাদেশি নাগরিকদের সাধারণত তৃতীয় কোনো দেশে অবস্থিত কেপ ভার্দের দূতাবাস থেকে ভিসা সংগ্রহ করতে হয়।
এদিকে যুক্তরাজ্যভিত্তিক নাগরিকত্ববিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের সর্বশেষ পাসপোর্ট সূচকে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য কেপ ভার্দেকে ভিসামুক্ত গন্তব্য হিসেবে দেখানো হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বিভিন্ন দেশের ভিসানীতির পরিবর্তন আন্তর্জাতিক সূচকে হালনাগাদ হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। তাই বিদেশ ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি অভিবাসন কর্তৃপক্ষ বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করাই সবচেয়ে নিরাপদ।
কেপ ভার্দে ভিসা নেওয়ার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশি পর্যটক কাজী আসমা আজমেরী। তিনি ২০২৪ সালে সেনেগালে অবস্থানকালে সেখানকার কেপ ভার্দে দূতাবাস থেকে ছয় মাসের ভিসা সংগ্রহ করেছিলেন। তবে পরবর্তীতে মালিতে জ্বালানি সংকট এবং ফ্লাইট বাতিলের কারণে তার ভ্রমণ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়নি। ভবিষ্যতে আবার দেশটি ভ্রমণের ইচ্ছা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
আটলান্টিক মহাসাগরে আফ্রিকার পশ্চিম উপকূলের কাছে অবস্থিত আগ্নেয় দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে গঠিত কেপ ভার্দে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সমুদ্রসৈকত, আগ্নেয়গিরি, ক্রেওল সংস্কৃতি এবং সংগীতের জন্য পর্যটকদের কাছে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। প্রায় ছয় লাখ মানুষের এই ছোট দ্বীপরাষ্ট্র প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক পর্যটককে আকর্ষণ করে।
বাংলাদেশ থেকে কেপ ভার্দেতে সরাসরি কোনো বিমান যোগাযোগ নেই। সাধারণত ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে প্রথমে ইথিওপিয়ার আদ্দিস আবাবা এবং পরে সেনেগাল হয়ে কেপ ভার্দে পৌঁছানো যায়। এছাড়া পর্তুগালসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশের মাধ্যমে ট্রানজিট নিয়েও দেশটিতে ভ্রমণ করা সম্ভব।
ভ্রমণ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, বিদেশ সফরের আগে ভিসা, ট্রানজিট ও প্রবেশসংক্রান্ত সর্বশেষ নিয়ম সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত হয়ে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ।
সূত্র: প্রথম আলো
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!