যুক্তরাষ্ট্র   রবিবার ১ নভেম্বর ২০২৬,১৬ কার্তিক ১৪৩৩

হানি ট্র্যাপ কীভাবে চিনবেন, প্রতারণার শিকার হলে কী করবেন

সবুজ নিশান ডেস্ক

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ আগস্ট ২০২৬, ০৪:২৩ PM ১৭৭
হানি ট্র্যাপ কীভাবে চিনবেন, প্রতারণার শিকার হলে কী করবেন

ছবি: সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্মার্টফোনের বিস্তারের সঙ্গে প্রতারণার ধরনও বদলেছে। অপরিচিত কারও সঙ্গে দ্রুত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ, ভিডিও কলের সুযোগ নেওয়া এবং পরে সেই তথ্য ব্যবহার করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা—এ ধরনের প্রতারণাকে অনেক ক্ষেত্রে হানি ট্র্যাপ বলা হয়। সতর্কতার কিছু লক্ষণ আগে থেকেই চেনা গেলে ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

হানি ট্র্যাপের ধারণাটি ঐতিহাসিকভাবে গোয়েন্দা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে অনলাইন প্রতারণার ক্ষেত্রেও শব্দটি ব্যবহৃত হয়। এ ধরনের প্রতারণায় অপরাধীরা ভুয়া পরিচয়, অন্যের ছবি বা কৃত্রিমভাবে তৈরি কনটেন্ট ব্যবহার করে বিশ্বাসযোগ্য সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা করতে পারে।

পরিচয়ের অল্প সময়ের মধ্যেই কেউ যদি অস্বাভাবিক মাত্রায় ঘনিষ্ঠ হতে চান বা অতিরিক্ত ভালোবাসা ও প্রশংসা দেখাতে থাকেন, তাহলে সতর্ক হওয়া উচিত। দ্রুত আবেগগত নির্ভরতা তৈরি করার এই কৌশলকে লাভ বম্বিং বলা হয়।

আরেকটি সতর্কতার বিষয় হলো ভিডিও কলে আসতে বারবার অস্বীকৃতি জানানো। ক্যামেরা নষ্ট বা নেটওয়ার্ক সমস্যার মতো কারণ দেখিয়ে কেউ নিয়মিত ভিডিও যোগাযোগ এড়িয়ে গেলে পরিচয়টি যাচাই করার প্রয়োজন রয়েছে। প্রতারকেরা কখনো অন্যের ভিডিও বা কৃত্রিমভাবে তৈরি ভিডিও ব্যবহার করেও নিজেদের পরিচয় বিশ্বাসযোগ্য করার চেষ্টা করতে পারে।

সম্পর্ক তৈরির সময় অপর পক্ষ আপনার পেশা, পরিবার, আয়, ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বা আপনি একা থাকেন কি না—এ ধরনের তথ্য জানতে চাইতে পারে। ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে কাউকে প্রভাবিত বা নিয়ন্ত্রণ করার কৌশলকে সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বলা হয়।

পরবর্তীতে ব্যক্তিগত বা বিব্রতকর ছবি-ভিডিও শেয়ার করার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হলে ঝুঁকি আরও বাড়ে। এসব কনটেন্ট সংরক্ষণ বা রেকর্ড করে পরে ভয় দেখিয়ে অর্থ দাবি করার মতো সাইবার ব্ল্যাকমেলের ঘটনা ঘটতে পারে।

কখনো সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হওয়ার পর হঠাৎ পরিবারের সদস্যের অসুস্থতা, আইনি সমস্যা বা অন্য কোনো জরুরি পরিস্থিতির কথা বলে টাকা চাওয়া হতে পারে। পরিচয় ও পরিস্থিতি যাচাই না করে এ ধরনের অনুরোধে অর্থ পাঠানো উচিত নয়।

অপরিচিত কারও অনলাইন পরিচয় নিয়ে সন্দেহ হলে তাঁর ব্যবহৃত ছবি রিভার্স ইমেজ সার্চ দিয়ে যাচাই করা যেতে পারে। একই ছবি অন্য নামে বা অন্য অ্যাকাউন্টে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না, এতে কিছুটা ধারণা পাওয়া যায়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থান, ভ্রমণের পরিকল্পনা, পারিবারিক পরিস্থিতি বা আর্থিক তথ্য প্রকাশ্যে শেয়ার না করাই নিরাপদ। একইভাবে অনলাইনে পরিচিত অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে এমন ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও বা তথ্য বিনিময় করা উচিত নয়, যা পরবর্তী সময়ে অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

কেউ চাপ সৃষ্টি করলেও টাকা পাঠানোর আগে পরিচয় ও দাবির সত্যতা যাচাই করা জরুরি।

ব্ল্যাকমেলের মুখে পড়ে আতঙ্কিত হয়ে চ্যাট, ছবি বা অন্যান্য তথ্য মুছে ফেলবেন না। কথোপকথনের স্ক্রিনশট, অ্যাকাউন্টের তথ্য, অডিও-ভিডিও এবং অর্থ লেনদেনের রেকর্ড সংরক্ষণ করুন। এগুলো অভিযোগ বা তদন্তের ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।

অপরাধীর সঙ্গে দর-কষাকষি বা ব্যক্তিগতভাবে সমাধানের চেষ্টা না করে যোগাযোগ বন্ধ করা এবং সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট ব্লক করা যেতে পারে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়া উচিত।

জরুরি পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করা যায়। নারী ভুক্তভোগীরা বাংলাদেশ পুলিশের পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন (PCSW)-এর সহায়তাও নিতে পারেন।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!