সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। ছবি: সংগৃহীত
সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ-কে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় নতুন অগ্রগতি দেখা দিয়েছে। লন্ডন থেকে এশিয়ার একটি দেশের উদ্দেশে যাত্রাকালে দুবাইয়ে ট্রানজিটের সময় গ্রেপ্তার হওয়া এই সাবেক পুলিশ কর্মকর্তাকে বাংলাদেশে হস্তান্তরের জন্য আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন জমা দিতে বাংলাদেশ সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রয়োজনীয় আইনি ও কূটনৈতিক নথিপত্র জমা দিলে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির পর গত ১২ জুন দুবাইয়ে তাকে আটক করে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে অবহিত করা হয়। গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে আমিরাত কর্তৃপক্ষ জানায়, আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বাংলাদেশকে এখন আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন পাঠাতে হবে।
গ্রেপ্তারের পর আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) আবুধাবি থেকে বাংলাদেশ পুলিশের এনসিবি ঢাকা শাখার কাছে পাঠানো এক চিঠিতে জানানো হয় যে, ইন্টারপোলের রেড নোটিশ অনুসারে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে স্থানীয় বিচারিক কর্তৃপক্ষের সামনে উপস্থাপন করা হলে আদালত দেশটির প্রচলিত আইনের আলোকে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশ দেয়।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, আমিরাতের ফেডারেল আইনের বিধান অনুযায়ী গ্রেপ্তারের পর ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র না পৌঁছালে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া জটিল হয়ে পড়তে পারে।
প্রত্যর্পণ আবেদনের সঙ্গে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নথি সংযুক্ত করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে অভিযুক্ত ব্যক্তির পূর্ণ পরিচয়, ছবি, নাগরিকত্ব ও বসবাস সংক্রান্ত তথ্য, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ, সংশ্লিষ্ট আইনের ধারা ও সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান। পাশাপাশি বাংলাদেশের বিচারিক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক জারি করা আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, তদন্ত প্রতিবেদনের অনুলিপি এবং মামলার ঘটনার সময়, স্থান ও অপরাধের প্রকৃতি সম্পর্কিত তথ্যও জমা দিতে হবে।
যদি অভিযুক্ত ব্যক্তি কোনো মামলায় ইতোমধ্যে দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে থাকেন, তাহলে আদালতের রায় এবং সাজা কার্যকরের আনুষ্ঠানিক নথিও প্রত্যর্পণ আবেদনের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে। আমিরাতের আইন অনুযায়ী এসব নথি আরবি ভাষায় অনূদিত হতে হবে এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষর ও সিলমোহর থাকতে হবে।
বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং অর্থপাচারসহ একাধিক অভিযোগ নিয়ে তদন্ত চলছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চেয়ে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করা হয়। দুবাইয়ে তার গ্রেপ্তারকে মামলার তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
বর্তমানে নজর রয়েছে বাংলাদেশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা গেলে সাবেক এই পুলিশ প্রধানকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারিক কার্যক্রমের আওতায় আনার পথ আরও সুগম হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে সরকারি পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!