যুক্তরাষ্ট্র   শুক্রবার ১৬ অক্টোবর ২০২৬,৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

হাইকোর্টে রিট নিষ্পত্তি বেড়েছে, কমেছে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা

সবুজ নিশান ডেস্ক

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২৮ PM ৪৯
হাইকোর্টে রিট নিষ্পত্তি বেড়েছে, কমেছে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা

হাইকোর্ট বিভাগের ভবন; ছবি: সংগৃহীত

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে নতুন রিট মামলার তুলনায় নিষ্পত্তির সংখ্যা বেড়েছে। বিশেষ করে এপ্রিল থেকে জুন—এই তিন মাসে নতুন করে দায়ের হওয়া রিটের প্রায় দ্বিগুণ মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এর ফলে জুনের শেষে হাইকোর্টে বিচারাধীন রিট মামলার সংখ্যা বছরের শুরুর তুলনায় কমেছে।

সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলামের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরুতে হাইকোর্টে বিচারাধীন রিট মামলার সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২৭ হাজার ৯৬০টি। বছরের প্রথম তিন মাসে অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত নতুন রিট দায়ের হয় ৪ হাজার ১১২টি। একই সময়ে নিষ্পত্তি করা হয় ২ হাজার ২১৩টি মামলা।

এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত চিত্রটি ছিল ভিন্ন। ওই তিন মাসে হাইকোর্টে নতুন রিট মামলা হয় ৪ হাজার ৭২৯টি। বিপরীতে নিষ্পত্তি করা হয় ৯ হাজার ৫৯০টি। অর্থাৎ এই সময়ে যত নতুন রিট মামলা হয়েছে, নিষ্পত্তির সংখ্যা তার দ্বিগুণেরও বেশি। জুনের শেষে বিচারাধীন রিটের সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ১ লাখ ২৪ হাজার ৯৯৯টিতে।

রিট মামলার এই চাপ কমানোর বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে বলেন, বর্তমান প্রধান বিচারপতি দায়িত্ব নেওয়ার পর আদালতে বিচারিক শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। তাঁর মতে, আদালতের কার্যক্রমে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা গেলে প্রকৃত ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ বাড়বে এবং রিট মামলার সংখ্যাও কমতে পারে।

অ্যাটর্নি জেনারেলের মতে, জনস্বার্থের মামলার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত স্বার্থের বিষয়ও রিটের মাধ্যমে আদালতে আনা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, কিছু ব্যক্তি রিট করার পর বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমের সামনে উপস্থিত হন, যা তিনি অনাকাঙ্ক্ষিত প্রবণতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

রিট গ্রহণের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়ের বাধ্যবাধকতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ অনুসারে আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত হাইকোর্টের জন্য অনুসরণীয়। ফলে কোন ধরনের বিষয়ে হাইকোর্টে রিট গ্রহণযোগ্য এবং কোন ক্ষেত্রে নয়—এ বিষয়ে আপিল বিভাগের একাধিক সিদ্ধান্ত রয়েছে।

ব্যক্তিগত বিরোধের বিষয় সরাসরি রিটের মাধ্যমে হাইকোর্টে নিয়ে আসার প্রবণতাকেও রিট মামলার সংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন অ্যাটর্নি জেনারেল। জমি দখল, জমির সীমানা বা বিল-বাঁওড় সংক্রান্ত বিরোধের মতো বিষয়ে সাধারণত নিম্ন আদালতের মাধ্যমে প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাঁর ভাষ্য, প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়া এড়িয়ে এসব বিষয় সরাসরি হাইকোর্টে নিয়ে এলে রিটের সংখ্যা বাড়ে।

রিটের ব্যবহার নিয়ে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদে হাইকোর্টের এখতিয়ার নির্ধারিত রয়েছে। এর আওতায় পাঁচ ধরনের রিটের বিধান রয়েছে। কোনো ব্যক্তিকে আইনগত কারণ ছাড়া আটক করা হলে হেবিয়াস করপাসের মাধ্যমে তাঁকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ চাওয়া যায়।

কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা প্রতিষ্ঠান আইন অনুযায়ী যে দায়িত্ব পালনে বাধ্য, তা না করলে ম্যান্ডামাস রিটের মাধ্যমে সেই দায়িত্ব পালনের নির্দেশ চাওয়া যায়। কোনো আদালত বা ট্রাইব্যুনাল আইনগত ক্ষমতার বাইরে গিয়ে আদেশ দিলে সার্টিওরারি রিটের মাধ্যমে তা বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া যায়।

আবার কোনো বিচারিক আদালত বা ট্রাইব্যুনাল তার এখতিয়ারের বাইরে কোনো মামলা পরিচালনা শুরু করলে প্রহিবিশন রিটের মাধ্যমে ওই কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ চাওয়া যায়। আর আইনগত যোগ্যতা ছাড়া কেউ সরকারি পদে বহাল থাকলে কো-ওয়ারেন্টো রিটের মাধ্যমে তাঁর ওই পদে থাকার বৈধতা প্রশ্নে আনা যায়।

বাংলাদেশে জনস্বার্থে রিটের আইনি বিকাশের ক্ষেত্রে মহিউদ্দিন ফারুক বনাম বাংলাদেশ মামলার রায়কে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ওই রায়ের মাধ্যমে জনস্বার্থে ক্ষতিকর কোনো বিষয়ে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়েও কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আইনি প্রতিকার চেয়ে হাইকোর্টে যাওয়ার সুযোগ পায়।

পরবর্তী সময়ে জনস্বার্থে করা রিটের মাধ্যমে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ এসেছে। নদীকে ‘জীবন্ত সত্তা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া, নদী দখলমুক্ত করার উদ্যোগ, অবৈধ ইটভাটা বন্ধ এবং পাহাড় কাটা প্রতিরোধের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে রিটের আদেশ বা রায় ভূমিকা রেখেছে।

এ ছাড়া জনস্বাস্থ্য, নিরাপদ খাদ্য, দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের ক্ষতিপূরণ এবং নারী, শিশু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রেও রিট মামলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। অনেক ক্ষেত্রে একজনের দায়ের করা রিটের রায় বা আদেশের সুফল বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর ওপরও পড়েছে।

হাইকোর্ট

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!