বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আফসার আহমেদ সিদ্দিকীর মৃত্যুবার্ষিকীর আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন রুহুল কবির রিজভী। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক অবস্থান ও অতীত কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ক্ষমতার স্বার্থে জামায়াত কখনো কখনো বিএনপির সঙ্গে জোট গড়তে চাইলেও তাদের কর্মকাণ্ডে শেখ হাসিনার অনুসৃত রাজনৈতিক পথের প্রতিফলন দেখা যায়। একই সঙ্গে বিএনপিকে ফ্যাসিবাদের পথে চলার অভিযোগেরও জবাব দিয়েছেন তিনি।
রোববার (১৮ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আফসার আহমেদ সিদ্দিকীর ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে বক্তব্য দেন রিজভী। এ সময় জামায়াতের আমিরের বিএনপিকে ফ্যাসিস্টদের পথে এগিয়ে যাওয়ার অভিযোগের সমালোচনা করেন তিনি। অভিযোগের পক্ষে সুনির্দিষ্ট উদাহরণ দেওয়ার আহ্বানও জানান বিএনপির এই নেতা।
রিজভীর দাবি, ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের সব কর্মকাণ্ড ক্ষমা করে দেওয়া কিংবা ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়ে বিএনপির কোনো নেতা এমন বক্তব্য দেননি। দলের প্রধান তারেক রহমানও এ ধরনের কথা বলেননি বলে উল্লেখ করেন তিনি। তা সত্ত্বেও বিএনপির বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদের পথে চলার অভিযোগ তোলা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন রিজভী।
বিএনপির প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দলটি জনগণের কাছে দেওয়া অঙ্গীকার থেকে সরে আসে না। অন্যদিকে জামায়াত ইসলামের ও আল্লাহর নামে প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরে তার বিপরীত আচরণ করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থান ও কর্মকাণ্ডের মধ্যে অসংগতির বিষয়টি উঠে আসে।
অতীতের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরে রিজভী বলেন, এরশাদ সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। আওয়ামী লীগ ও জামায়াতও একই অবস্থান নিয়েছিল। কিন্তু পরে আওয়ামী লীগ ও জামায়াত সেই অবস্থান থেকে সরে আসে বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনাকে সামনে এনে জামায়াতের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের অভিযোগ তোলেন বিএনপির এই নেতা।
১৯৯৪-৯৫ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াত একই পথে চলেছিল বলে মন্তব্য করেন রিজভী। তাঁর মতে, অতীতের এসব ঘটনা বিবেচনায় না নিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। গণতন্ত্র ও দেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে জামায়াতের আদর্শিক অবস্থান এবং বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে দলটির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে আফসার আহমেদ সিদ্দিকীর সঙ্গে নিজের ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথাও স্মরণ করেন রিজভী। তিনি বলেন, আফসার আহমেদকে বড় ভাই বলে সম্বোধন করলেও তাঁদের সম্পর্ক ছিল অনেকটা পিতা-পুত্রের মতো। তাঁর কাছ থেকে রাজনীতি সম্পর্কে জানার পাশাপাশি ব্যক্তিজীবনেও অনেক কিছু শিখেছেন বলে জানান বিএনপির এই নেতা।
বিএনপির নার্সেস ও স্বাস্থ্য সহকারী সহসম্পাদক জাহানারা সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন দলের স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম এবং যুবদলের সহসাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন মামুনসহ অন্যরা।
রুহুল কবির রিজভী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!