যুক্তরাষ্ট্র   বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,১ আশ্বিন ১৪৩৩

কোম্পানি আইনে শেয়ার বাইব্যাকের সুযোগ চায় বিএসইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০৫ PM ৫৪
কোম্পানি আইনে শেয়ার বাইব্যাকের সুযোগ চায় বিএসইসি

ছবি: সংগৃহীত

তালিকাভুক্ত কোম্পানিকে নির্দিষ্ট শর্তে নিজস্ব শেয়ার কেনার সুযোগ দিতে কোম্পানি আইন সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। একই সঙ্গে বার্ষিক প্রতিবেদন ডিজিটালভাবে প্রকাশ, কোম্পানি একীভূতকরণ ও পুনর্গঠনে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকা এবং প্রসপেক্টাসে আর্থিক বিবরণী ব্যবহারের সময়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাবও করা হয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর এফবিসিসিআই বোর্ড রুমে কোম্পানি আইন-১৯৯৪-এর খসড়া সংশোধনী নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বিএসইসির পক্ষ থেকে এসব প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। সভাটির আয়োজন করে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)।

সভায় বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক আবুল কালাম বলেন, বর্তমান কোম্পানি আইনের ৫৮ ধারায় কোম্পানির নিজস্ব শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট শর্ত ও কাঠামোর মাধ্যমে অন্তত তালিকাভুক্ত কোম্পানিকে শেয়ার বাইব্যাকের সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।

তাঁর মতে, এ ধরনের ব্যবস্থা চালু হলে কোম্পানিগুলোকে মূলধন ব্যবস্থাপনায় বাড়তি সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

বিএসইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে কোম্পানি আইন সংশোধন নিয়ে দেওয়া প্রস্তাবগুলোর কয়েকটি বর্তমান খসড়ায় প্রতিফলিত হয়নি। শেয়ার বাইব্যাকের বিষয়টি সেগুলোর অন্যতম।

কোম্পানি আইনের বিভিন্ন পরিভাষা বর্তমান করপোরেট ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয় সভায়।

‘ব্যালান্স শিট’-এর পরিবর্তে ‘বার্ষিক আর্থিক বিবরণী’ এবং বোর্ড রিপোর্টের পরিবর্তে ‘অ্যানুয়াল রিপোর্ট’ ব্যবহারের প্রচলন থাকায় আইনের ভাষায়ও প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া কোম্পানির অ্যানুয়াল রিপোর্ট ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রকাশ ও সরবরাহের সুযোগ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে তথ্য প্রকাশ এবং শেয়ারহোল্ডার ও সংশ্লিষ্টদের কাছে প্রতিবেদন পৌঁছানো সহজ হবে বলে মত দেওয়া হয়।

মার্জার ও পুনর্গঠনে বিএসইসির ভূমিকা

তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির একীভূতকরণ, অধিগ্রহণ, ডিমার্জার কিংবা পুনর্গঠনের ক্ষেত্রেও বিএসইসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত রাখার প্রস্তাব দিয়েছে সংস্থাটি।

বিএসইসির বক্তব্য, তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানি অন্য কোনো অ-তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত হলে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সরাসরি সংশ্লিষ্ট থাকে। তাই এ ধরনের সিদ্ধান্তে নিয়ন্ত্রক সংস্থার মতামত থাকা প্রয়োজন।

কোম্পানি আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো সংশোধনের সময় বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে বিএসইসির ভূমিকা নিশ্চিত করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়।

প্রসপেক্টাসে আর্থিক বিবরণী ব্যবহারের সময়সীমা ১৮০ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৭০ দিন করার প্রস্তাবও দিয়েছে বিএসইসি।

সভায় বলা হয়, আইপিও, রাইট শেয়ার বা বন্ডসহ বিভিন্ন ধরনের সিকিউরিটিজ ইস্যুর ক্ষেত্রে নিরীক্ষা, আবেদন, অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট নথি জমা দেওয়ার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হয়। ফলে অনেক ক্ষেত্রে আর্থিক বিবরণীর ১৮০ দিনের সময়সীমা পার হয়ে যেতে পারে।

বিএসইসির মতে, সময়সীমা বাড়ানো হলে এ ধরনের প্রক্রিয়াগত জটিলতা কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।

এদিকে এফবিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকেও কোম্পানি আইন সংশোধনে বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি বার্ষিক আয় করা কোম্পানিতে কোম্পানি সচিব নিয়োগ, পেশাজীবীদের কোম্পানির প্রতিনিধিত্ব এবং বার্ষিক সাধারণ সভার (এজিএম) নোটিশের সময়সীমা নিয়ে পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে।

এজিএমের ক্ষেত্রে শেয়ারহোল্ডারদের জানানোর পর ন্যূনতম ২১ দিন সময় রাখার প্রস্তাব নিয়ে সভায় আলোচনা হয়। পরে একজন ব্যবসায়ী এ সময় ১৪ দিন করার প্রস্তাব দেন এবং বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এতে সম্মতি জানান।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!