যুক্তরাষ্ট্র   শনিবার ৬ জুন ২০২৬,২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বিশ্ব পরিবেশ দিবসে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে কর অব্যাহতির দাবি, জীবাশ্ম জ্বালানির ভর্তুকি বন্ধের আহ্বান

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৫ জুন ২০২৬, ০৫:০০ PM

১১
বিশ্ব পরিবেশ দিবসে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে কর অব্যাহতির দাবি, জীবাশ্ম জ্বালানির ভর্তুকি বন্ধের আহ্বান

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে রাজধানীর শ্যামলী পার্কে নবায়নযোগ্য জ্বালানির পক্ষে আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে অংশ নেন বিভিন্ন পরিবেশ ও নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর অব্যাহতি প্রদান এবং জীবাশ্ম জ্বালানিতে সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা বন্ধের দাবিতে রাজধানীতে নাগরিক সমাবেশ, মূকাভিনয় ও সচেতনতামূলক পোস্টার বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ জুন) রাজধানীর শ্যামলী পার্কে “এখনই নবায়নযোগ্য জ্বালানি’র দাবিতে” শীর্ষক এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। “Inspired by Nature. For Climate. For Our Future.” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেশের পরিবেশ, উন্নয়ন, যুব ও নাগরিক সমাজের ৩১টি সংগঠনের প্রতিনিধি, গবেষক, পরিবেশকর্মী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং সচেতন নাগরিকরা অংশগ্রহণ করেন।

ব্রাইটার্সের সভাপতি ফারিহা অমির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি বদরুল আলম।

সভাপতির বক্তব্যে বদরুল আলম বলেন, জলবায়ু সংকট ও পরিবেশ বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর উন্নয়ন ব্যবস্থা। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত রূপান্তরের কোনো বিকল্প নেই। সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি ও অন্যান্য পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সরকার ও জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৃথিবী নিশ্চিত করা যায়।

সমাবেশে বক্তব্য দেন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)-এর সদস্য সচিব শরীফ জামিল। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম হলেও দেশে এখনও জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর প্রকল্প সম্প্রসারণের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা উদ্বেগজনক।

শরীফ জামিল বলেন, বাংলাদেশে সৌরশক্তিসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তাই বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও চরম আবহাওয়ার প্রভাব মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। তিনি আসন্ন জাতীয় বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে করমুক্ত সুবিধা ও প্রয়োজনীয় প্রণোদনা দেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে জীবাশ্ম জ্বালানিতে ভর্তুকি ও আর্থিক প্রণোদনা বন্ধ করার আহ্বান জানান।

সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে দেশের উপকূলীয় অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় বিশেষ বাজেট বরাদ্দ, সবুজ বেষ্টনী সম্প্রসারণ এবং টেকসই অবকাঠামো নির্মাণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশে পরিণত হয়েছে। তাই জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর উন্নয়ন থেকে সরে এসে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গত রূপান্তর নিশ্চিত করতে হবে। তারা সৌর ও বায়ুশক্তির ব্যবহার বাড়ানো, জীবাশ্ম জ্বালানিতে নতুন বিনিয়োগ বন্ধ এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবস্থার সম্প্রসারণের দাবি জানান।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ইক্যুইটিবিডির নেটওয়ার্কিং অ্যান্ড মোবিলাইজেশন সমন্বয়কারী মোস্তফা কামাল আকন্দ, রিভার বাংলার সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ, ড্রিম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের পরিচালক মীর মোহাম্মদ আলী, ব্রতী সমাজ কল্যাণ সংস্থার সানজিদা রহমান, সচেতন ফাউন্ডেশনের হাবিব রহমান এবং ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের ইকবাল ফারুকসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে জলবায়ু সংকট ও পরিবেশ সুরক্ষার বার্তা নিয়ে একটি মূকাভিনয় পরিবেশন করা হয়। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রয়োজনীয়তা, জলবায়ু ন্যায়বিচার এবং পরিবেশ সুরক্ষার আহ্বানসংবলিত পোস্টার সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয়।

আয়োজকরা জানান, পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন, জলবায়ু ন্যায়বিচার এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির পক্ষে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করাই এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। তারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি টেকসই ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার, বেসরকারি খাত এবং নাগরিক সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!