যুক্তরাষ্ট্র   রবিবার ২৫ অক্টোবর ২০২৬,৯ কার্তিক ১৪৩৩

ভোলার ৯ ইউনিয়নে বিনামূল্যে চিকিৎসা, সেবা পেলেন ১০ হাজার মানুষ

সবুজ নিশান ডেস্ক

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০২ PM ৫০
ভোলার ৯ ইউনিয়নে বিনামূল্যে চিকিৎসা, সেবা পেলেন ১০ হাজার মানুষ

ভোলায় আয়োজিত বিনামূল্যের মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন স্থানীয়রা। ছবি: সংগৃহীত

অর্থের অভাবে চিকিৎসকের কাছে যেতে পারেন না—ভোলার এমন দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থের ব্যক্তিগত উদ্যোগে ১৯ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভোলা সদর উপজেলার নয়টি ইউনিয়নে তিন ধাপে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এতে অন্তত ১০ হাজার মানুষ চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পেয়েছেন।

কর্মসূচিতে শিশু, নারী, মধ্যবয়সী ও প্রবীণসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ চিকিৎসা নেন। রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধও বিনামূল্যে দেওয়া হয়। চিকিৎসা কার্যক্রমে অংশ নিতে ঢাকা থেকে নয়জন চিকিৎসক ভোলায় যান।

২৬ সেপ্টেম্বর ছিল কর্মসূচির তৃতীয় ধাপ। ওই দিন ভোলা সদর উপজেলার আলীনগর, উত্তর দিঘলদী ও দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নে একযোগে মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকেই এসব ক্যাম্পে চিকিৎসা নিতে মানুষের ভিড় দেখা যায়। অনেকেই পুরোনো ব্যবস্থাপত্র নিয়ে এসেছেন, আবার কেউ দীর্ঘদিনের অসুস্থ স্বজনকে সঙ্গে নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েছেন।

উত্তর দিঘলদী ইউনিয়নের ক্যাম্পে চিকিৎসা নেওয়া ষাটোর্ধ্ব রহিমা বেগম জানান, অর্থের অভাবে দীর্ঘদিন চিকিৎসকের কাছে যেতে পারেননি। বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ পাওয়ায় তিনি স্বস্তি পেয়েছেন। একই এলাকার সত্তরোর্ধ্ব ছলেমান মাঝিও ক্যাম্প থেকে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার কথা জানান।

আয়োজকরা জানান, শুধু রোগ নির্ণয় ও ওষুধ দেওয়ার মধ্যেই কার্যক্রম সীমাবদ্ধ ছিল না। রোগের কারণ, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধ সেবনের নিয়ম এবং স্বাস্থ্য সচেতনতার বিষয়েও রোগীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ক্যাম্পে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে পানিবাহিত রোগ, ডায়াবেটিস, অ্যালার্জি ও প্রোস্টেটের সমস্যাসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা দেখা গেছে বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। নারীদের মধ্যে গর্ভধারণসংক্রান্ত জটিলতা, বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা এবং বয়সজনিত রোগ নিয়েও অনেকে চিকিৎসা নেন। চিকিৎসক ডা. জান্নাতুল মাওয়া বলেন, গ্রামীণ এলাকার অনেক নারী অর্থ ও সুযোগের অভাবে নিয়মিত চিকিৎসা নিতে পারেন না।

মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজক বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) ভোলা জেলা সভাপতি মো. আমিরুল ইসলাম রতন বলেন, তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের কাছে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়াই এ আয়োজনের উদ্দেশ্য। নয়টি ইউনিয়নের ক্যাম্পগুলোতে বিভিন্ন বয়সী মানুষ চিকিৎসা নিয়েছেন।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেন, অর্থের অভাবে যেন কেউ প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ভোলা সদর উপজেলার নয়টি ইউনিয়নের পর পর্যায়ক্রমে পৌরসভাসহ আরও তিনটি ইউনিয়নে এ কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, মানুষের প্রয়োজনের সময়ে পাশে দাঁড়ানোর উদ্দেশ্যেই এ ধরনের সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তাঁর মতে, এটি শুধু ওষুধ বিতরণের কর্মসূচি নয়; অসচ্ছল মানুষের স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে সহায়তা করার একটি উদ্যোগ।

ভোলার সিভিল সার্জন ডা. মনিরুল ইসলাম বলেন, দরিদ্র মানুষের হাতে বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ পৌঁছে দেওয়া তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা। এতে চিকিৎসার সুযোগের পাশাপাশি অসুস্থ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ও আশার অনুভূতিও তৈরি হয়।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ১৯ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বরের তিন ধাপের কর্মসূচিতে অন্তত ১০ হাজার মানুষ চিকিৎসাসেবা পেয়েছেন। পর্যায়ক্রমে আরও এলাকায় ক্যাম্প সম্প্রসারণের পরিকল্পনা থাকায় ভোলার আরও মানুষ এর আওতায় আসবেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!