ছবিঃ সংগৃহীত
দেশে যখন হাম ও সংক্রামক রোগ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, ঠিক তখনই নতুন করে মাথাচাড়া দিচ্ছে ম্যালেরিয়া। দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণে থাকা এই রোগ ফের সংক্রমণ ও মৃত্যুর কারণে স্বাস্থ্য খাতে নতুন দুশ্চিন্তা তৈরি করেছে। বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সংক্রমণ বাড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
সম্প্রতি প্রশাসনের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার ম্যালেরিয়ায় মৃত্যু এবং রাজধানীতে একাধিক রোগী শনাক্ত হওয়ার ঘটনায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত জরিপ না হওয়া এবং নজরদারির ঘাটতির কারণে বর্তমানে রোগের প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে সরকার অনেকটাই ‘অন্ধকারে’ রয়েছে।
পার্বত্য এলাকা থেকে শহরে ছড়াচ্ছে সংক্রমণ
গত ২১ মার্চ ঢাকাভিত্তিক একটি পর্যটক দল বান্দরবান ভ্রমণ শেষে ফিরে এসে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাদের শরীরে ম্যালেরিয়া শনাক্ত হয় এবং রাজধানীর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এছাড়া ঢাকার সূত্রাপুর এলাকায় জ্বর নিয়ে ভর্তি হওয়া কয়েকজন রোগীর মধ্যেও ম্যালেরিয়া ধরা পড়ে।
এতে স্পষ্ট হচ্ছে, ম্যালেরিয়া এখন শুধু পার্বত্য অঞ্চলে সীমাবদ্ধ নেই; ভ্রমণ ও চলাচলের মাধ্যমে শহরেও ছড়িয়ে পড়ছে।
উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর-এর তথ্য অনুযায়ী:
- ২০২৫ সালে আক্রান্ত: ১০,১৬২ জন
- মৃত্যু: ১৬ জন
- ২০২৬ সালের প্রথম ৩ মাসে আক্রান্ত: ৪৬০ জন
- মৃত্যু: ১ জন
সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা:
- বান্দরবান: ৫,০২৩ জন
- রাঙামাটি: ৩,৬১৪ জন
- কক্সবাজার: ৮৪৫ জন
- খাগড়াছড়ি: ৫৩৪ জন
এই পরিসংখ্যান ২০৩০ সালের মধ্যে ম্যালেরিয়া নির্মূলের লক্ষ্যে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
জরিপ বন্ধ, বাড়ছে অনিশ্চয়তা
বিশেষজ্ঞদের মতে, গত দুই বছর নিয়মিত মশা ও রোগের জরিপ বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না।
ম্যালেরিয়া কোন প্রজাতির জীবাণু—Plasmodium vivax নাকি Plasmodium falciparum—তা নির্ধারণও অনেক ক্ষেত্রে সম্ভব হচ্ছে না।
এছাড়া রাজধানীতে Anopheles mosquito পাওয়া গেলেও সেগুলো সংক্রমণ বহন করছে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে স্থবিরতা
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, অপারেশন প্ল্যান (ওপি) বন্ধ থাকায় ম্যালেরিয়া নির্মূল কর্মসূচিতে গতি কমে গেছে। যদিও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চলছে, তবে পূর্ণমাত্রায় কার্যক্রম পরিচালনা সম্ভব হচ্ছে না।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একসময় নিয়ন্ত্রণে আসা রোগে উদাসীনতা দেখা দিলে তা আবার ফিরে আসা স্বাভাবিক।
তাদের মতে:
- নিয়মিত জরিপ চালু করা জরুরি
- দ্রুত রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে
- পার্বত্য অঞ্চলে ভ্রমণকারীদের সচেতনতা বাড়াতে হবে
সামনে বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস
আগামী বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস সামনে রেখে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!