যুক্তরাষ্ট্র   রবিবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,৪ আশ্বিন ১৪৩৩

ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০৮ PM | সর্বশেষ আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১১ PM
ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

জাসদ সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। ছবি: সংগৃহীত

জুলাই আন্দোলন ঘিরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাসদ সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে দেওয়া ১০ বছরের কারাদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) প্রায় ৫০০ পৃষ্ঠার রায়ের অনুলিপি প্রকাশ করা হয়।

এর আগে ৩০ জুন ট্রাইব্যুনাল ইনুর বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগের মধ্যে তিনটি প্রমাণিত হওয়ায় প্রতিটিতে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেন। সাজাগুলো একই সঙ্গে কার্যকর হওয়ায় মোট কারাদণ্ডের মেয়াদ ১০ বছর। পূর্ণাঙ্গ রায়ে ৩, ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রমাণিত অভিযোগগুলোর মধ্যে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার তালিকা তৈরি এবং তাদের আটক ও নির্যাতনের জন্য কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ফোনে নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি রয়েছে। এছাড়া ১৪ দলীয় জোটের সভায় উপস্থিত থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তে ভূমিকা এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথোপকথনের মাধ্যমে ষড়যন্ত্রে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগও ট্রাইব্যুনাল প্রমাণিত বলে উল্লেখ করেছে।

এসব অভিযোগে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি দুটি অভিযোগে এক লাখ টাকা করে জরিমানার আদেশ দেওয়া হয়েছে। তবে সব সাজা একই সঙ্গে কার্যকর হবে।

ইনুর বিরুদ্ধে আনা ১, ২, ৪, ৫ ও ৮ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এসব অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই একটি ভারতীয় গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারের বক্তব্য এবং আন্দোলন দমনে উসকানি ও সহায়তার অভিযোগ ছিল। ১৯ জুলাই গণভবনে ১৪ দলীয় জোটের সভায় আন্দোলন দমনে ‘শুট অ্যাট সাইট’ সিদ্ধান্ত গ্রহণে তার ভূমিকার অভিযোগও প্রমাণিত হয়নি।

এ ছাড়া আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র ও অন্যান্য শক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনায় সম্পৃক্ততা এবং গণমাধ্যমে বক্তব্যের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে উসকানির অভিযোগও প্রমাণিত হয়নি।

৮ নম্বর অভিযোগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরে ছয় আন্দোলনকারীকে হত্যায় নির্দেশনা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছিল। একই অভিযোগে সারাদেশে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষকে হত্যা এবং ২৫ হাজারের বেশি ছাত্র-জনতাকে আহত করার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও ছিল। ট্রাইব্যুনাল এ অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ইনুকে এ অভিযোগ থেকে খালাস দিয়েছে।

পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম জানিয়েছেন, রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ফলে মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়া এখানেই শেষ হচ্ছে না।

এদিকে, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনাকে কেন্দ্র করেও হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে পৃথক মামলা রয়েছে। ওই মামলায় তিনি তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী হিসেবে একটি কোর কমিটির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন—এমন অভিযোগের ভিত্তিতে বিচার কার্যক্রম চলছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!