যুক্তরাষ্ট্র   রবিবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,৪ আশ্বিন ১৪৩৩

আওয়ামী লীগ সমর্থকের বাড়িতে দাওয়াত, সেনবাগের ওসি প্রত্যাহার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪৭ PM ১০
আওয়ামী লীগ সমর্থকের বাড়িতে দাওয়াত, সেনবাগের ওসি প্রত্যাহার

নোয়াখালীর সেনবাগ থানা ও প্রত্যাহার হওয়া ওসি মো. আবদুর রহিম সরকার। ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালীর সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুর রহিম সরকারকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক সমর্থকের বাড়িতে আয়োজিত দাওয়াতে তাঁর অংশ নেওয়ার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তাঁকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় আবদুর রহিম সরকারকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। তাঁর জায়গায় সেনবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হযরত আলী মিলনকে ওসির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার পর আবদুর রহিম সরকার থানা ছেড়ে যান বলে জানিয়েছেন হযরত আলী মিলন।

নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আহমেদ পেয়ার বলেন, একজনের বাড়িতে গিয়ে দাওয়াতে অংশ নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওসি আবদুর রহিম সরকারকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তবে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তদন্ত প্রতিবেদন এখনো পাওয়া যায়নি।

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন আগে সেনবাগ উপজেলার বাতানিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী মো. শাহজাহান খোকনের বাড়িতে আয়োজিত ভূরিভোজে অংশ নেন আবদুর রহিম সরকার। শাহজাহান খোকনকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই দাওয়াতের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।

এর মধ্যে গত শুক্রবার রাতে সেনবাগ উপজেলার কাবিলপুর ইউনিয়নের বটতলা বাজার এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের একটি মিছিলের খবর আসে। এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ওই ঘটনার পর ওসির প্রত্যাহারের বিষয়টি উঠে এসেছে। তবে প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক কারণ হিসেবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দাওয়াতে অংশ নেওয়ার ঘটনাটিকেই উল্লেখ করেছেন।

ওসির দায়িত্ব পাওয়া হযরত আলী মিলন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি আবদুর রহিম সরকারকে একজন ব্যবসায়ীর বাড়িতে দাওয়াতে অংশ নিতে দেখেছেন। শনিবার রাতেই আবদুর রহিম সরকার তাঁর কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে থানা থেকে চলে যান বলেও জানান তিনি।

এদিকে বটতলা বাজার এলাকায় মিছিলের ঘটনায় সেনবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে বলে একাধিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ওই মামলায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের পাঁচ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৩৫ জনকে আসামি করার তথ্যও পাওয়া গেছে।

আওয়ামী লীগ

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!