ছবি: সংগৃহীত
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ঝাড়ফুঁকের কথা বলে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে মো. আলমগীর হোসেন ফরাজী (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি জামায়াতের স্থানীয় পর্যায়ের সাবেক নেতা বলে জানিয়েছে পুলিশ ও সংশ্লিষ্টরা।
পুলিশ জানায়, শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত সোয়া ১১টার দিকে শরীফপুর ইউনিয়নের পশ্চিম খানপুর গ্রামের ফরাজী বাড়ি থেকে আলমগীরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী শিশু স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মাথাব্যথার কারণে সে বাবুনগর এলাকার হাসানহাট বাজারে আলমগীরের ওষুধের দোকানে যায়। সেখানে ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি আলমগীর ঝাড়ফুঁক করতেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
শিশুটির বাবার অভিযোগ, মাথাব্যথা ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে ভালো করার কথা বলে আলমগীর তাকে দোকানের পেছনের একটি কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটিকে যৌন নির্যাতন করা হয় এবং বিষয়টি কাউকে জানালে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে শিশুটি শারীরিক অস্বস্তির কথা জানালে পরিবারের সদস্যরা তাকে জিজ্ঞাসা করেন। একপর্যায়ে সে পরিবারের কাছে ঘটনার কথা জানায়। এরপর তার বাবা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, আলমগীরকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে। শিশুটিকে চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মেডিকেল রিপোর্টসহ তদন্তের পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আলমগীরের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়ে শরীফপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মোজাম্মেল হোসেন জানান, আলমগীর অতীতে ওয়ার্ড পর্যায়ে জামায়াতের বিভিন্ন দায়িত্বে ছিলেন। তবে ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর তিনি নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন এবং বর্তমানে দলীয় কার্যক্রমের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেন।
একই ব্যক্তির মাধ্যমে আলমগীরের দাবি জানিয়ে মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ঝাড়ফুঁকের কাজকে কেন্দ্র করে রতন নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে আলমগীরের বিরোধ ছিল। টাকা না দেওয়ায় ওই ব্যক্তি তাকে ফাঁসাতে শিশুর পরিবারকে দিয়ে মামলা করিয়েছেন বলে আলমগীর দাবি করেছেন।
অভিযোগের সত্যতা তদন্তাধীন। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আলমগীরকে দোষী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা যাবে না।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!