যুক্তরাষ্ট্র   সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬,৫ আশ্বিন ১৪৩৩

তৃতীয় দেশে ২৫ হাজারের বেশি অভিবাসী পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪৬ PM
তৃতীয় দেশে ২৫ হাজারের বেশি অভিবাসী পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতির আওতায় তৃতীয় দেশে পাঠানো অভিবাসীরা; ছবি: সংগৃহীত

নিজ দেশের পরিবর্তে এমন তৃতীয় দেশে ২৫ হাজারের বেশি অভিবাসীকে পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যেসব দেশের সঙ্গে তাদের আগে কোনো সম্পর্ক বা যোগাযোগ ছিল না। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের একটি যৌথ অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত অন্তত ২৫ হাজার ৪৪৭ জনকে ২৮টি দেশে পাঠানো হয়েছে।

অনুসন্ধানটি ১৫টি দেশের ২৬টি সংবাদমাধ্যমের ৭২ জন সাংবাদিক মিলে পরিচালনা করেন। এ সময় শতাধিক মানুষের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয় এবং অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, তৃতীয় দেশে অভিবাসী পাঠানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র অন্তত ৩৫টি দেশের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের চুক্তি করেছে বা সমঝোতা গড়ে তুলেছে।

দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের অনুসন্ধান অনুযায়ী, এসব চুক্তি বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্র অন্তত ৪১০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট সরকারগুলোকে প্রায় ৮১ মিলিয়ন ডলার, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থাকে ১৭৮ মিলিয়ন ডলারের বেশি এবং জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থাকে ১২৩ মিলিয়ন ডলারের বেশি দেওয়ার বরাদ্দ রয়েছে।

তৃতীয় দেশে পাঠানোর ব্যবস্থাটি পরিচালনায় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ‘অফিস অব রিমাইগ্রেশন’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ওয়াশিংটন পোস্টের অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের মে মাসে গঠিত এই দপ্তরই বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এ ধরনের সমঝোতা ও অর্থায়নের বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছে।

মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবশ্য বলা হয়েছে, যেসব অভিবাসীর নিজ দেশ তাদের ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে অথবা যারা নিজের দেশে ফিরতে চাননি, মূলত তাদেরই তৃতীয় দেশে পাঠানো হচ্ছে। হোয়াইট হাউসের ভাষ্য অনুযায়ী, চূড়ান্ত বহিষ্কারাদেশ পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে তৃতীয় দেশে ডিপোর্টেশনের আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ইতোমধ্যে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। ১৮ সেপ্টেম্বর ফার্স্ট সার্কিটের একটি ফেডারেল আপিল আদালত রায় দিয়ে জানায়, কোনো ব্যক্তিকে এমন দেশে পাঠানোর আগে তাকে সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি জানানোর অর্থবহ সুযোগ দিতে হবে। আদালত মনে করেছে, গন্তব্য সম্পর্কে যথেষ্ট নোটিশ না দিলে এবং নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ জানানোর সুযোগ না থাকলে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত হয় না।

এর আগে মার্কিন জেলা আদালতও এই নীতির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। আপিল আদালত সেই রায়ের বেশির ভাগ অংশ বহাল রাখায় তৃতীয় দেশে দ্রুত অভিবাসী পাঠানোর নীতিটি বর্তমানে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। তবে মার্কিন প্রশাসন রায়টির বিরুদ্ধে আরও আইনি পদক্ষেপ নিতে পারে।

তৃতীয় দেশে পাঠানো ব্যক্তিদের বড় একটি অংশকে মেক্সিকোতে পাঠানো হয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্টের হিসাবে, মোট সংখ্যার প্রায় ২০ হাজারই মেক্সিকো গেছে। অন্যদের আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে পাঠানো হয়েছে।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!