যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে ইরানের অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে; ছবি: সংগৃহীত
চলমান যুদ্ধ ও দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার চাপে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে ইরান। দেশটির সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পারস্য বর্ষপঞ্জির বছরের প্রথম প্রান্তিকে—মার্চের শেষ থেকে জুনের শেষ পর্যন্ত—ইরানের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে।
ইরানের অর্থনীতির এই সংকোচনের সময়টিই ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে তীব্র সামরিক সংঘাতের পর্যায়। এ সময় দেশটির তেল রপ্তানি, বাণিজ্য ও সরবরাহব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়। ইরান জ্বালানি রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতি হওয়ায় যুদ্ধের প্রভাব উৎপাদন ও বৈদেশিক বাণিজ্যেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
অর্থনৈতিক সংকটের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে মূল্যস্ফীতিও। ইরানের সরকারি হিসাবে আগস্টে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি ৬৯ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছেছে। এর ফলে দেশটির সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে এবং দৈনন্দিন ব্যয় সামলানো আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
যুদ্ধের আগে থেকেই ইরানের অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরে নিষেধাজ্ঞা, মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির মতো সমস্যায় ছিল। নতুন সংঘাত সেই বিদ্যমান চাপকে আরও তীব্র করেছে। বিশেষ করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় এবং তেল বিক্রির ওপর চাপ বাড়ায় অর্থনীতির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।
চলমান সংকটের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো হরমুজ প্রণালি। যুদ্ধের আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। সংঘাতের মধ্যে সেখানে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় ইরানের তেল রপ্তানি যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তেমনি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা বেড়েছে।
এদিকে জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত থামানোর লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই সামরিক উত্তেজনা আবার ফিরে আসে। ফলে ইরানের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফেরানোর প্রচেষ্টা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
আন্তর্জাতিক বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও হরমুজ প্রণালির সরবরাহঝুঁকির কারণে সেপ্টেম্বরের শুরুতে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়। উচ্চ জ্বালানি মূল্য বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ানোর আশঙ্কাও তৈরি করেছে।
তবে ইরানের অর্থনীতির সামনে সংকট আরও কতটা গভীর হবে, তা নির্ভর করছে যুদ্ধের স্থায়িত্ব, তেল রপ্তানির সুযোগ এবং নিষেধাজ্ঞার পরিস্থিতির ওপর। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের জুলাইয়ের পূর্বাভাসে চলতি বছরে ইরানের জিডিপি ৫ দশমিক ৪ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে বলা হয়েছিল। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে সেই পূর্বাভাসেও পরিবর্তন আসতে পারে।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!