সিরিয়ার একটি তেলক্ষেত্র/ ফাইল ছবি: এএফপি
বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম টানা চতুর্থ দিনের মতো কমেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাবনা এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত থাকায় বাজারে সরবরাহ-সংকট নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলের দামে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০১ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ৯৮ ডলারের নিচে নেমেছে।
টানা চার দিনের পতনে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআইয়ের দর জুনের পর সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে কমার ধারায় রয়েছে।
তেলের বাজারে সাম্প্রতিক চাপের অন্যতম কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য কূটনৈতিক যোগাযোগকে দেখা হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে তিনি সম্ভবত সম্মত হতে পারেন।
এ সপ্তাহে নিউইয়র্কে ট্রাম্পের চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে। পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গেও তার বৈঠক হতে পারে। এসব কূটনৈতিক তৎপরতা জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বাজারের উদ্বেগ কমাতে ভূমিকা রাখছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতিও তেলের বাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহে এই নৌপথ দিয়ে অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি পরিবহনের পরিমাণ ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির প্রধান নৌপথগুলো মাইনমুক্ত রয়েছে। গত কয়েক মাসে পারস্য উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলো এই পথ ব্যবহার করে ১০০ কোটি ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল পরিবহন করেছে।
তবে বাজারে তেলের দামের দীর্ঘমেয়াদি পতনের পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষক জুয়ি ঝাও। তার মতে, ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০০ ডলারের আশপাশে ওঠানামা করতে পারে।
সাম্প্রতিক দরপতনের পরও চলতি বছরে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৭০ শতাংশ বেশি রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, তা এখনো বাজারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
এর পাশাপাশি ইউক্রেনের পক্ষ থেকে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা অব্যাহত থাকার বিষয়টিও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কারণ হিসেবে রয়েছে।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!